০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

সাবেক কাউন্সিলর ‘বাপ্পির নির্দেশে’ হত্যা করা হয় ওসমান হাদিকে: ডিবি

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৪ বার পড়া হয়েছে।

‎যুবলীগ নেতা ‘তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে’ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। 

‎হাদির মামলার তদন্তের অভিযোগপত্র আদালতে জমা শেষে মঙ্গলবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

‎শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে গুলি করে খুন করা হয়। হাদির মামলার তদন্তে ১৭ জনের নামে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়। এ ঘটনায় ১২ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ৫ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে খুন করা হয়।’

‎শফিকুল ইসলাম আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার লড়াই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এবং এতে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। পুলিশ এই মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে এবং দ্রুতই বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে।

‎উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে দুই যুবক শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

‎সেখানেই সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন ছিলেন ওসমান হাদি। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

‎এদিকে, নিহত শরিফ ওসমান হাদির পরিবার তার হত্যার সঠিক বিচার চেয়ে আসছে। তারা বলেছে যে, এই হত্যাকাণ্ড তাদের জন্য এক গভীর শোকের বিষয় এবং তারা আশা করছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।

‎এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, এ ধরনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে।

 

 

 

 

‎তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সাবেক কাউন্সিলর ‘বাপ্পির নির্দেশে’ হত্যা করা হয় ওসমান হাদিকে: ডিবি

আপডেট সময়ঃ ০৭:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

‎যুবলীগ নেতা ‘তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে’ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। 

‎হাদির মামলার তদন্তের অভিযোগপত্র আদালতে জমা শেষে মঙ্গলবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

‎শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে গুলি করে খুন করা হয়। হাদির মামলার তদন্তে ১৭ জনের নামে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়। এ ঘটনায় ১২ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ৫ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে খুন করা হয়।’

‎শফিকুল ইসলাম আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার লড়াই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এবং এতে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। পুলিশ এই মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে এবং দ্রুতই বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে।

‎উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে দুই যুবক শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

‎সেখানেই সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন ছিলেন ওসমান হাদি। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

‎এদিকে, নিহত শরিফ ওসমান হাদির পরিবার তার হত্যার সঠিক বিচার চেয়ে আসছে। তারা বলেছে যে, এই হত্যাকাণ্ড তাদের জন্য এক গভীর শোকের বিষয় এবং তারা আশা করছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।

‎এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, এ ধরনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে।

 

 

 

 

‎তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন