প্রশাসনের ‘কড়াকড়ি’ বনাম ব্যবসায়ীদের ক্ষোভঃ
সিলেটে অনির্দিষ্টকালের তেল পাম্প ধর্মঘট
- আপডেট সময়ঃ ০৮:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫ বার পড়া হয়েছে।
সিলেট বিভাগজুড়ে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাম্পগুলোতে প্রশাসনের তদারকি, ঘনঘন হিসাব গ্রহণ এবং ‘অযৌক্তিক’ জরিমানার অভিযোগ তুলে হঠাৎ করেই সব ধরনের পেট্রোল পাম্প বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মালিকরা।
বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে কার্যকর হওয়া এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও যাত্রীরা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনা করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বারবার হিসাব নেওয়া এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মতো পদক্ষেপগুলো ব্যবসায়ীদের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে সম্প্রতি ছয়টি পাম্পে বড় অংকের জরিমানা আদায় করার বিষয়টি মালিকপক্ষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা একে নিয়মতান্ত্রিক তদারকি নয়, বরং ‘পরিকল্পিত হয়রানি’ হিসেবে দেখছেন।
সূত্র জানায়, উদ্ভুত সংকট নিরসনে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই পেট্রোল পাম্প মালিকদের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো ফলপ্রসূ সমাধান না আসায় শেষ পর্যন্ত রাতেই জরুরি বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা। সেখান থেকেই সিলেট বিভাগের সকল সিএনজি, এলপিজি ও পেট্রোল পাম্প বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা অনেকটা চ্যালেঞ্জের সুরেই বলেছেন, বর্তমান প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যে পাম্প চালানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার চাইলে প্রতিনিধি নিয়োগ করে নিজেরাই পাম্প পরিচালনা করতে পারে, এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। মূলত প্রশাসনের কঠোর নজরদারিকে ব্যবসায় বাধা হিসেবেই দেখছেন তারা।
হঠাৎ করে ডাকা এই ধর্মঘটের কারণে সিলেট বিভাগের পরিবহন খাতে বড় ধরনের স্থবিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাতেই অনেক পাম্পে তেলের জন্য ভিড় করতে দেখা গেছে চালকদের।
তবে ধর্মঘটের কারণে জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে ফিরে যেতে হয়েছে অনেককে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে উঠে জনভোগান্তি লাঘব করা হবে।











