০৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

সিলেটে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা: ওসমানীতে কর্মবিরতি ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৯ বার পড়া হয়েছে।

‎সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। 

‎হামলার প্রতিবাদ ও কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। 

‎এতে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হলেও মানবিক বিবেচনায় জরুরি বিভাগ ও আইসিইউ সেবা চালু রাখা হয়েছে।

‎হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে। হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং পরবর্তীতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রোগীর স্বজনরা সুচিকিৎসার অভাব ও অবহেলার অভিযোগ তুলে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হলে খবরটি দ্রুত পুরো হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়ে।

‎সহকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রাত থেকেই কাজ বন্ধ করে হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

‎হামলার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হামলার অভিযোগে রোগীর তিন স্বজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটককৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (২৮) এবং একই এলাকার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।

‎পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, “হাসপাতালের পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত থাকলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

 

‎সমাধানের খোঁজে দফায় দফায় বৈঠক

‎পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শনিবার দুপুর থেকে দফায় দফায় বৈঠকে বসেছে হাসপাতাল প্রশাসন ও ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের প্রতিনিধিরা। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রশীদ মুনীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়।

‎সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শনিবার বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। এর আগে দুপুরে প্রথম দফার বৈঠকে পরিচালক চিকিৎসকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “চিকিৎসকদের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। তবে রোগীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।”

‎তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী পদক্ষেপের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

‎ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে সিলেটের এই শীর্ষ হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। নিয়মিত রাউন্ড এবং ওয়ার্ডের চিকিৎসায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে সিনিয়র চিকিৎসকরা অতিরিক্ত সময় দিয়ে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

‎ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের এক প্রতিনিধি বলেন, “আমরা বারবার বলেছি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কিন্তু বারংবার চিকিৎসকদের ওপর হামলা হচ্ছে। এভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। হামলাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি এবং স্থায়ী নিরাপত্তা বলয় তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”

‎শনিবার বিকাল পর্যন্ত হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় কর্মবিরতি শেষ হওয়ার বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।

 

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সিলেটে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা: ওসমানীতে কর্মবিরতি ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি

আপডেট সময়ঃ ০৭:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

‎সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। 

‎হামলার প্রতিবাদ ও কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। 

‎এতে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হলেও মানবিক বিবেচনায় জরুরি বিভাগ ও আইসিইউ সেবা চালু রাখা হয়েছে।

‎হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে। হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং পরবর্তীতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রোগীর স্বজনরা সুচিকিৎসার অভাব ও অবহেলার অভিযোগ তুলে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হলে খবরটি দ্রুত পুরো হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়ে।

‎সহকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রাত থেকেই কাজ বন্ধ করে হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

‎হামলার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হামলার অভিযোগে রোগীর তিন স্বজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটককৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (২৮) এবং একই এলাকার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।

‎পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, “হাসপাতালের পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত থাকলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

 

‎সমাধানের খোঁজে দফায় দফায় বৈঠক

‎পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শনিবার দুপুর থেকে দফায় দফায় বৈঠকে বসেছে হাসপাতাল প্রশাসন ও ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের প্রতিনিধিরা। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রশীদ মুনীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়।

‎সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শনিবার বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। এর আগে দুপুরে প্রথম দফার বৈঠকে পরিচালক চিকিৎসকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “চিকিৎসকদের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। তবে রোগীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।”

‎তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী পদক্ষেপের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

‎ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে সিলেটের এই শীর্ষ হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। নিয়মিত রাউন্ড এবং ওয়ার্ডের চিকিৎসায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে সিনিয়র চিকিৎসকরা অতিরিক্ত সময় দিয়ে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

‎ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের এক প্রতিনিধি বলেন, “আমরা বারবার বলেছি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কিন্তু বারংবার চিকিৎসকদের ওপর হামলা হচ্ছে। এভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। হামলাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি এবং স্থায়ী নিরাপত্তা বলয় তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”

‎শনিবার বিকাল পর্যন্ত হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় কর্মবিরতি শেষ হওয়ার বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।

 

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন