ক্লোজড হলেন এয়ারপোর্ট থানার ওসি মোবাশ্বির আলী
সিলেটে বিএনপি প্রার্থীর তোপ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি
- আপডেট সময়ঃ ১১:১৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৩ বার পড়া হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোবাশ্বির আলীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।
নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে প্রধান বিরোধী শিবিরের গুরুতর অভিযোগ এবং এলাকায় অপরাধ দমনে ব্যর্থতার মুখে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হলেও শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু দিন ধরেই বিভাগীয় পর্যায়ে নানা বিতর্ক দানা বাঁধছিল।
নির্বাচনী পক্ষপাত ও হয়রানি অভিযোগঃ
ওসি শাহ মোবাশ্বির আলীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অভিযোগটি তোলেন সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও এসএমপি কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়:
* নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই ওসি শাহ মোবাশ্বির আলী সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছিলেন।
* বিরোধী প্রার্থীর স্বাভাবিক নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
* প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে ওসির প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ কোনো কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল।
হাউজিং এস্টেটে ছিনতাই ও পুলিশের অদক্ষতাঃ
রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি ওসি মোবাশ্বির আলীর ওপর খড়গ নেমে আসার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল নগরের হাউজিং এস্টেটে ঘটে যাওয়া একটি চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত ওই ছিনতাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ওসি ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার এই ব্যর্থতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে তাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “সুনির্দিষ্ট কোনো একটি বিশেষ কারণ নয়, বরং পেশাগত দায়িত্বে অবহেলার কারণেই তাকে এয়ারপোর্ট থানার ওসির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।”
এয়ারপোর্ট থানার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, যেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা রয়েছে, সেখানে ওসির এমন বিদায় প্রশাসনের ভেতরকার অস্বস্তিকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বর্তমানে থানায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে পরবর্তী দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তথ্যসহায়তাঃসিলেটটুডে24










