০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক, সহায়তায় শিক্ষার্থীরাও

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:২১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৮৫ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরে শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণের কর্মযজ্ঞ। পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

 

এই কৃষিকাজে হাওরপাড়ের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হয়েছেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও মাঠে নেমে পড়েছে—কেউ শ্রমিকদের জন্য দুপুরের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে, আবার কেউ হালিচারা সংগ্রহ করে কৃষিকাজে সহায়তা করছে।

 

‎সরেজমিনে জেলার শনির হাওর, পাকনার হাওর, খরচার হাওর, নলুয়ার হাওর, ধানকুনিয়া হাওর, দেখার হাওর ও হালির হাওর ঘুরে দেখা যায়—হাওরের বিস্তীর্ণ জমিতে কৃষকরা বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

‎জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলার ছোট-বড় মোট ১৭০টি হাওরে ধান চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫–৬ শতাংশ জমিতে বোরো ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

‎পাকনা হাওরপাড়ের ফেনারবাক ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া বলেন, “হাওরের পানি নামতে দেরি হওয়ায় এখনো সব জমিতে চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। পানি পুরোপুরি নামলে দ্রুত রোপণ শেষ করা যাবে।”

‎ধানকুনিয়া হাওরপাড়ের মুক্তারপুর গ্রামের কৃষক কাদির মিয়া জানান, “এখনই বোরো ধানের চারা রোপণের চূড়ান্ত সময়। কিন্তু পানি ধীরে নামছে, তাই কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।”

‎হালির হাওরপাড়ের হরিনগর গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, “প্রতিদিনই আমরা জমিতে ধান রোপণের কাজ করছি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পুরোদমে রোপণ শুরু হবে।”

 

‎এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, সুনামগঞ্জ জেলার হাওর রক্ষা বাঁধের কাজের সূচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পানি কমার সাথে সাথে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। আশা করছি, খুব দ্রুতই হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলার ১৭০টি হাওরে মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে কৃষকরা বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং পানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

‎এছাড়া, হাওরের কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি অফিসের সমন্বয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা সঠিক পদ্ধতিতে ধান চাষ করতে পারেন।

‎এদিকে, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কৃষিকাজে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের সহযোগিতায় কৃষকরা দ্রুত ও কার্যকরভাবে ধান রোপণ করতে পারছেন। শিক্ষার্থীরা মাঠে কাজ করার পাশাপাশি কৃষকদের চাষাবাদ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যও শেয়ার করছেন, যা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হচ্ছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, এ বছর সঠিক সময়ে ধান রোপণ সম্পন্ন হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। হাওরের পানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকদের পরিশ্রম সফল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক, সহায়তায় শিক্ষার্থীরাও

আপডেট সময়ঃ ০৩:২১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরে শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণের কর্মযজ্ঞ। পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

 

এই কৃষিকাজে হাওরপাড়ের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হয়েছেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও মাঠে নেমে পড়েছে—কেউ শ্রমিকদের জন্য দুপুরের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে, আবার কেউ হালিচারা সংগ্রহ করে কৃষিকাজে সহায়তা করছে।

 

‎সরেজমিনে জেলার শনির হাওর, পাকনার হাওর, খরচার হাওর, নলুয়ার হাওর, ধানকুনিয়া হাওর, দেখার হাওর ও হালির হাওর ঘুরে দেখা যায়—হাওরের বিস্তীর্ণ জমিতে কৃষকরা বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

‎জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলার ছোট-বড় মোট ১৭০টি হাওরে ধান চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫–৬ শতাংশ জমিতে বোরো ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

‎পাকনা হাওরপাড়ের ফেনারবাক ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া বলেন, “হাওরের পানি নামতে দেরি হওয়ায় এখনো সব জমিতে চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। পানি পুরোপুরি নামলে দ্রুত রোপণ শেষ করা যাবে।”

‎ধানকুনিয়া হাওরপাড়ের মুক্তারপুর গ্রামের কৃষক কাদির মিয়া জানান, “এখনই বোরো ধানের চারা রোপণের চূড়ান্ত সময়। কিন্তু পানি ধীরে নামছে, তাই কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।”

‎হালির হাওরপাড়ের হরিনগর গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, “প্রতিদিনই আমরা জমিতে ধান রোপণের কাজ করছি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পুরোদমে রোপণ শুরু হবে।”

 

‎এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, সুনামগঞ্জ জেলার হাওর রক্ষা বাঁধের কাজের সূচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পানি কমার সাথে সাথে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। আশা করছি, খুব দ্রুতই হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলার ১৭০টি হাওরে মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে কৃষকরা বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং পানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

‎এছাড়া, হাওরের কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি অফিসের সমন্বয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা সঠিক পদ্ধতিতে ধান চাষ করতে পারেন।

‎এদিকে, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কৃষিকাজে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের সহযোগিতায় কৃষকরা দ্রুত ও কার্যকরভাবে ধান রোপণ করতে পারছেন। শিক্ষার্থীরা মাঠে কাজ করার পাশাপাশি কৃষকদের চাষাবাদ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যও শেয়ার করছেন, যা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হচ্ছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, এ বছর সঠিক সময়ে ধান রোপণ সম্পন্ন হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। হাওরের পানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকদের পরিশ্রম সফল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।