'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল সরকার'
সুনামগঞ্জের হাওররক্ষা বাঁধে অনিয়ম হলে ছাড় নয়: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- আপডেট সময়ঃ ০৩:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৭ বার পড়া হয়েছে।
হাওর অঞ্চলের জীবন-জীবিকার প্রধান ভিত্তি বোরো ধান রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেছেন, “হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোনো প্রকার অনিয়ম, গাফিলতি বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এ ক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি ঘোষণা করেছে।”
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন হাওররক্ষা বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সুনামগঞ্জকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “মৎস্য, পাথর আর সোনালী ধানের এই জনপদ দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখে। কৃষকের ঘামঝরা ফসল অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। বাঁধের কাজে যারা যুক্ত আছেন, তাদের মনে রাখতে হবে এটি কেবল একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি লাখো কৃষকের ভাগ্য। এখানে কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়মের ঠাঁই হবে না।”
পরিদর্শনকালে তিনি বাঁধের কাজের গুণগত মান যাচাই করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে যেন হাওরের ফসল নিরাপদে ঘরে তোলা যায়। এই বরাদ্দের একটি টাকাও যদি লুটপাট হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম কয়সর আহমেদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির বর্ষীয়ান সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মামুন হাওলাদার, নির্বাহী প্রকৌশলী-২ এমদাদুল হক এবং তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় চেয়ারম্যান জুনাব আলীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক কৃষক প্রতিনিধি।
বাঁধ পরিদর্শন শেষে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি স্থানীয় কৃষকদের সমস্যার কথা শোনেন। কৃষকরা মন্ত্রীর কাছে নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ করা এবং পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। মন্ত্রী কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি চলবে এবং ফসল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত সরকার হাওরবাসীর পাশে সজাগ থাকবে।




















