০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জে কিশোর চালকের গলায় ছুরি চালিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই: মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৫

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১২:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা শহরে যাত্রীবেশে এক কিশোর অটোরিকশা চালকের গলায় ছুরি চালিয়ে গাড়ি ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল দুই ছিনতাইকারীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ তদন্তের পর শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি শহরের হাজীপাড়া এলাকায় ১৪ বছর বয়সী কিশোর চালক ঝনিক দাসের অটোরিকশাটি ভাড়া নেয় একদল ছিনতাইকারী। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নির্জন স্থানে যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা ঝনিকের গলায় ধারালো ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় চালককে রাস্তায় ফেলে রেখে তারা অটোরিকশাটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ঝনিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় ঝনিকের মা আরতী দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শনিবার প্রযুক্তির (ইলেকট্রনিক ডিভাইস) সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মূল দুই ছিনতাইকারী হলো: ১. মো. শাকিল (২৩): শহরের তেঘরিয়া এলাকার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের ছেলে।, ২. সাব্বির ইসলাম শ্রাবণ (২২): একই এলাকার মোহাম্মদ জুয়েল আহমেদের ছেলে।

ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ও এর যন্ত্রাংশ কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন: মো. চান মিয়া (৩৮)শাহাবুদ্দিন (৩৪): উভয়ই ওয়েজখালী এলাকার মোছন মিয়ার ছেলে।মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম (৩৫): কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার সুরুজ আলীর ছেলে।

আটকের পর আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিবিড় তল্লাশি অভিযান চালায়। অভিযানে পশ্চিম হাজীপাড়া এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত সেই ধারালো ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মল্লিকপুর এলাকার একটি গোপন আস্তানা থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশার ৪টি মূল্যবান ব্যাটারি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “শহরে ছিনতাই ও অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ একটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এই গ্রেপ্তারের খবরে সুনামগঞ্জ শহরের অটোরিকশা চালক ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে কিশোর চালকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জে কিশোর চালকের গলায় ছুরি চালিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই: মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৫

আপডেট সময়ঃ ১২:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলা শহরে যাত্রীবেশে এক কিশোর অটোরিকশা চালকের গলায় ছুরি চালিয়ে গাড়ি ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল দুই ছিনতাইকারীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ তদন্তের পর শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি শহরের হাজীপাড়া এলাকায় ১৪ বছর বয়সী কিশোর চালক ঝনিক দাসের অটোরিকশাটি ভাড়া নেয় একদল ছিনতাইকারী। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নির্জন স্থানে যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা ঝনিকের গলায় ধারালো ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় চালককে রাস্তায় ফেলে রেখে তারা অটোরিকশাটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ঝনিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় ঝনিকের মা আরতী দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শনিবার প্রযুক্তির (ইলেকট্রনিক ডিভাইস) সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মূল দুই ছিনতাইকারী হলো: ১. মো. শাকিল (২৩): শহরের তেঘরিয়া এলাকার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের ছেলে।, ২. সাব্বির ইসলাম শ্রাবণ (২২): একই এলাকার মোহাম্মদ জুয়েল আহমেদের ছেলে।

ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ও এর যন্ত্রাংশ কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন: মো. চান মিয়া (৩৮)শাহাবুদ্দিন (৩৪): উভয়ই ওয়েজখালী এলাকার মোছন মিয়ার ছেলে।মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম (৩৫): কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার সুরুজ আলীর ছেলে।

আটকের পর আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিবিড় তল্লাশি অভিযান চালায়। অভিযানে পশ্চিম হাজীপাড়া এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত সেই ধারালো ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মল্লিকপুর এলাকার একটি গোপন আস্তানা থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশার ৪টি মূল্যবান ব্যাটারি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “শহরে ছিনতাই ও অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ একটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এই গ্রেপ্তারের খবরে সুনামগঞ্জ শহরের অটোরিকশা চালক ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে কিশোর চালকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।