০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

‎সুনামগঞ্জে সেনাবাহিনীর বিশাল সাফল্য: ছয় উপজেলায় একযোগে অভিযানে অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ ৪ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬১ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জেলার ছয়টি উপজেলায় একযোগে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে ৪ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসময় তাদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, শক্তিশালী সাউন্ড বোমা এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

‎সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ইউনিটগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গতিবিধি নজরদারি করছিল।

সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত একটি বিশেষ অপারেশন টিম গঠন করে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো ছিল— সুনামগঞ্জ সদর, জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, শান্তিগঞ্জ এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা।

 

‎অভিযানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা থেকে যে পরিমাণ মারণাস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তা দেখে হতবাক স্থানীয়রা।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে:

‎ অত্যাধুনিক অস্ত্র: ২টি বিদেশি পিস্তল, ৪টি .২২ ক্যালিবার রাইফেল এবং ১টি স্টান গান।

‎ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র: ৪টি পাইপ গান এবং বিপুল পরিমাণ ধারালো দেশীয় অস্ত্র।

‎ গোলাবারুদ: ৬ রাউন্ড বিদেশি কার্তুজ এবং ১ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ।

‎বিস্ফোরক: জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত ৮০টি শক্তিশালী দেশীয় সাউন্ড বোমা।

‎অস্ত্রের পাশাপাশি জেলাজুড়ে মাদক সিন্ডিকেটের মূলে আঘাত হেনেছে সেনাবাহিনী। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে: প্রায় ১৫০০ লিটার দেশীয় মদ ও ২০ বোতল বিদেশি মদ, ১১.৩ কেজি গাঁজা এবং ৪৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

‎অভিযান শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে সেনাবাহিনীর এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

‎সেনা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, “দেশ ও জনস্বার্থে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প অথবা যেকোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করুন। আপনাদের দেওয়া তথ্যই পারে একটি নিরাপদ সমাজ নিশ্চিত করতে।”

‎গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎সুনামগঞ্জে সেনাবাহিনীর বিশাল সাফল্য: ছয় উপজেলায় একযোগে অভিযানে অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ ৪ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

আপডেট সময়ঃ ০৯:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

‎সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জেলার ছয়টি উপজেলায় একযোগে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে ৪ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসময় তাদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, শক্তিশালী সাউন্ড বোমা এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

‎সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ইউনিটগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গতিবিধি নজরদারি করছিল।

সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত একটি বিশেষ অপারেশন টিম গঠন করে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো ছিল— সুনামগঞ্জ সদর, জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, শান্তিগঞ্জ এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা।

 

‎অভিযানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা থেকে যে পরিমাণ মারণাস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তা দেখে হতবাক স্থানীয়রা।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে:

‎ অত্যাধুনিক অস্ত্র: ২টি বিদেশি পিস্তল, ৪টি .২২ ক্যালিবার রাইফেল এবং ১টি স্টান গান।

‎ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র: ৪টি পাইপ গান এবং বিপুল পরিমাণ ধারালো দেশীয় অস্ত্র।

‎ গোলাবারুদ: ৬ রাউন্ড বিদেশি কার্তুজ এবং ১ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ।

‎বিস্ফোরক: জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত ৮০টি শক্তিশালী দেশীয় সাউন্ড বোমা।

‎অস্ত্রের পাশাপাশি জেলাজুড়ে মাদক সিন্ডিকেটের মূলে আঘাত হেনেছে সেনাবাহিনী। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে: প্রায় ১৫০০ লিটার দেশীয় মদ ও ২০ বোতল বিদেশি মদ, ১১.৩ কেজি গাঁজা এবং ৪৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

‎অভিযান শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে সেনাবাহিনীর এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

‎সেনা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, “দেশ ও জনস্বার্থে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প অথবা যেকোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করুন। আপনাদের দেওয়া তথ্যই পারে একটি নিরাপদ সমাজ নিশ্চিত করতে।”

‎গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।