সুনামগঞ্জ ১, মনোনয়ন দ্বন্দ্বে বন্ধ কর্মিসভা
- আপডেট সময়ঃ ০৭:৪৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
- / ১১৭ বার পড়া হয়েছে।
তাহিরপুরে ইউনিয়ন বিএনপি’র কর্মীসভায় মনোনয়ন কেন্দ্রীক দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটেছে। এ কারণে সংগঠনের ইউনিয়ন পর্যায়ের ধারাবাহিক কর্মীসভা তাৎক্ষণিক স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি বাজারে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রবিবার সকালেই ভাইরাল হতে দেখা গেছে।
জানা যায়, সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সংগঠনকে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে জেলার তাহিরপুর উপজেলা বিএনপি ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মীসভা করার উদ্যোগ নেয়। ধারাবাহিক কর্মীসভার প্রথম দিনের কর্মসূচি ছিল উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়নে। ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজারে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় সভাপতিত্ব করেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া। যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী ও সদস্য শাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আনিসুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনের সহধর্মিনী সালমা নজির, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, আবুল হুদা, এমদাদুল হুদা, দক্ষিন বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সবুজ আলম, সাবেক শ্রমিক দল সভাপতি ফেরদৌস আলম, বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক চানঁ মিয়া মাষ্টার প্রমুখ।
কর্মী সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে কামরুজ্জামান কামরুলের নাম প্রচার করা হলেও কামরুল সভায় অনুপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবার সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আনিসুল হক বিএনপির দুঃসময়ের নানা কার্যক্রমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ‘ওয়ান ইলেভেন’ এর বিএনপি রাজনীতির প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি প্রয়াত রাজনীতিক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনকে ইঙ্গিত করে তাঁর (নজির হোসেনের) ওই সময়কার ভূমিকার সমালোচনা করেন। একপর্যায়ে তিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের নেতা তারেক রহমানের দুঃসময়ে রাজপথে সংগ্রাম করায় যারা তাদেরকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিলেন তাদেরও সমালোচনা করেন। তিনি মঞ্চে বসা নজির হোসেনের স্ত্রী সালমা নজিরকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘টেলিফোনের ভয় দেখিয়ে কমিটিতে ঢুকবেন, মঞ্চে বসবেন, এটা কীভাবে হয়।’
২০১৮’এর নির্বাচনের পর দলের স্থানীয় কর্মীদের হয়রানির প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরে ওই সময়ের হতাশার চিত্র ব্যাখ্যা করেন আনিসুল।
আনিসুলের বক্তব্যের সময় উপস্থিত নেতা কর্মীদের মধ্যে পক্ষে—বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এসময় দলের নেতাদের কেউ কেউ আনিসুলকে ‘কোল্ড কোল্ড’ বলে স¦াভাবিক করার চেষ্টা করেন।
সমাবেশ শেষে প্রয়াত নজির হোসেনের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমার স্বামী তাহিরপুরসহ সুনামগঞ্জ—১ আসনের মানুষের জন্য নিবেদিত ছিলেন। এখানকার বিএনপি তাঁর (নজির হোসেনের) হাতে গড়া সংগঠন। আমি কল্পনাও করি না এই অঞ্চলে কেউ এভাবে তাঁকে ইঙ্গিত করে অসত্য মন্তব্য করবে। তিনি জনগণের কাছে এমন ঘটনার বিচার প্রত্যাশা করেন।
পরে মঞ্চে থাকা দলীয় নেতারা বিক্ষুব্ধ নেতা কর্মীদের শান্ত করেন। তাৎক্ষণিক আনোয়ারপুর বাজারেই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সভা বসে। সভায় ইউনিয়ন বিএনপির ধারাবাহিক কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি রবিবার সকাল থেকে সুনামগঞ্জ—১ আসনের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে আলোচিত ছিল। ফেসবুকেও ভাইরাল হয়েছে এই প্রসঙ্গ।
রবিবার বিকালে আনিসুল হক তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন—‘শনিবার বালিজুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভায় অসাবধান বসত অনাকাক্সিক্ষত কিছু বক্তব্য রেখেছি, যা শোভন নয়। আমি বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দু:খিত।’ তাঁর এই স্ট্যাটাসও ব্যাপকভাবে প্রচার হয়। ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পক্ষে—বিপক্ষে মন্তব্য করেন বহু নেতা—কর্মী।
আনিসুল হক বিকেলে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি বুঝেছি অপ্রিয় সত্যও অনেক সময় বলা যায় না।’ বিএনপি’র সকল নেতা কর্মীকে নিয়ে আগামী দিনে একসঙ্গে রাজনীতি করতে চাই। এজন্য এই প্রসঙ্গ এখানেই শেষ হোক চাই আমি।
সালমা নজির এই প্রসঙ্গে বললেন, আনিসুলও একসময় আমার স্বামী নজির হোসেনের শুভানুধ্যায়ী ছিলেন। তাদের সহযোগিতায় নজির হোসেন এই নির্বাচনী এলাকায় বিএনপিকে শক্তিশালী করেছেন। নজির হোসেনের জনপ্রিয়তা ছিল এই আসনে আকাশচুম্বী। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সর্বশেষ ২০১৮ সালে যখন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। যারাই ভোটকেন্দ্রে গেছেন, সকলেই ওই সময় নজির হোসেনকে ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। আনিসুল এভাবে বলবেন আমি কল্পনাও করিনি। বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়টি জনতার বিবেকের কাছে ছেড়ে দিলাম। ইতোমধ্যে আনিসুল ভুল বুঝতে পেরেছেন।
এই আসনের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুজ্জামান কামরুল সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত থাকলেও তিনি সমাবেশে যান নি। বালিজুরির সভায় বিশৃঙ্খলার বিষয়ে কামরুলের বক্তব্য জানতে চাইলে, তিনি বলেন—‘শুনেছি আনিসুল হক ‘ওয়ান ইলেভেন’ কালের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন। ওই সময় প্রয়াত নজির হোসেনের কর্মী—সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হন। শেষে তাৎক্ষণিক বৈঠক করে ইউনিয়ন পর্যায়ের সভাগুলো স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী বললেন, বালিজুরি ইউনিয়নে বিএনপির কর্মী সভায় প্রধান অতিথি আনিসুল হকের বক্তব্য নিয়ে পক্ষে—বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া হয়। এজন্য শনিবার রাত সাড়ে আটটায় তাৎক্ষণিক আহ্বায়ক কমিটির সভা করে আজকের শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সমাবেশ বাতিল করা হয়। সকলের উদ্যোগ এবং রবিবার বিকালে আনিসুল হকের ফেসবুকে স্ট্যটাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি ইতিবাচক হয়েছে। অন্যান্য ইউনিয়নের কর্মীসভা পূর্ব নির্ধারিত তারিখে যথা সময়ে হবে। আমরা এই বিষয়ে কোন দ্বন্দ্বে জড়াতে চাই না।





















