০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

‎সুরমা নদী থেকে অবৈধভাবে ভিট-মাটি উত্তোলন; প্রশাসনের অজান্তে চার লেন প্রকল্পে পাহাড়সম মাটির স্তুপ

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:১৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৩৯ বার পড়া হয়েছে।

‎সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়কের চার লেন সম্প্রসারণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ভিট-মাটি সুরমা নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করে পুলিশ লাইনের সামনে পাহাড়সম স্তুপ করে রাখা হয়েছে-এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। 

‎সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব প্রদান ছাড়াই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কীভাবে বিপুল পরিমাণ মাটি উত্তোলন করা হলো, তা নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

‎পারমিশন ছাড়া মাটি উত্তোলন?

‎চার লেন প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান JON (JB)। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলী গোলাম আজম-এর কাছে মাটি সরবরাহ ও উত্তোলন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,“মাটি সরবরাহ করেছেন জগত বাবু ও যুবদল নেতা অলিউর রহমান। আমাদের কাছে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি আছে।”

‎তবে তার এই দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে যখন বিষয়টি যাচাই করতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

‎জেলা প্রশাসকের দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য

‎জেলা প্রশাসক ডা. ইলিয়াস মিয়া জানান- “সুরমা নদী বা আশপাশের কোনো স্থাপনা থেকে এ ধরনের মাটি উত্তোলনের জন্য কোনো পারমিশন দেওয়া হয়নি। মাটি কোথায় থেকে এসেছে এবং কীভাবে এসেছে—তা খতিয়ে দেখা হবে।”

‎তার এই মন্তব্য প্রকৌশলী গোলাম আজমের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি করেছে।

‎সদর এসিল্যান্ডের অজ্ঞতা!

‎মাটি উত্তোলন ও পরিবহনের বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ সদর এসিল্যান্ড আদিত্য পাল স্পষ্টভাবে বলেন- “এই বিষয়ে আমার কোনো তথ্য নেই। আমার কাছে কোনো আবেদন বা চিঠি আসেনি। আমি কিছুই জানি না। জেলা প্রশাসক স্যার এর সাথে যোগাযোগ করেন”

‎প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের এমন অজ্ঞতা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তোলে।

‎মাটি কোথা থেকে এলো—বড় প্রশ্ন

‎সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত মাটি উত্তোলনের জন্য সাধারণত পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু এই ঘটনায় দেখা গেছে-

‎প্রশাসনের কাছে কোনো পারমিশন নেই,এসি ল্যান্ড জানেন না, জেলা প্রশাসকও বিষয়টি তদন্ত করছেন, অথচ প্রকল্পস্থলে ইতোমধ্যে শতাধিক স্টিল বডি দিয়ে মাটি এনে রাখা হয়েছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে সুরমা নদীসহ আশপাশের চর এলাকা থেকে মাটি উত্তোলন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি নদীর পরিবেশ ও চর এলাকার স্থিতিস্থাপকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‎কারা এই মাটি ব্যবসায়ী?

‎প্রকৌশলী গোলাম আজমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জগত বাবু, যুবদল নেতা অলিউর রহমান। এই দুই ব্যক্তি মাটি সরবরাহে জড়িত। তবে তাদের কাছে কোনো ধরনের অনুমতি ছিল কিনা—তা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে।

‎জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাটি উত্তোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তি,স্থানীয় প্রভাবশালী,ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে।

‎স্থানীয়দের দাবি—স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি এলাকাবাসীর দাবি,সুরমা নদীর পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করা চার লেন কাজের নামে নদী ও সরকারের রাজস্ব লুটপাটের তদন্ত অনুমতিহীনভাবে মাটি সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎সুরমা নদী থেকে অবৈধভাবে ভিট-মাটি উত্তোলন; প্রশাসনের অজান্তে চার লেন প্রকল্পে পাহাড়সম মাটির স্তুপ

আপডেট সময়ঃ ০৬:১৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

‎সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়কের চার লেন সম্প্রসারণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ভিট-মাটি সুরমা নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করে পুলিশ লাইনের সামনে পাহাড়সম স্তুপ করে রাখা হয়েছে-এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। 

‎সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব প্রদান ছাড়াই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কীভাবে বিপুল পরিমাণ মাটি উত্তোলন করা হলো, তা নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

‎পারমিশন ছাড়া মাটি উত্তোলন?

‎চার লেন প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান JON (JB)। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলী গোলাম আজম-এর কাছে মাটি সরবরাহ ও উত্তোলন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,“মাটি সরবরাহ করেছেন জগত বাবু ও যুবদল নেতা অলিউর রহমান। আমাদের কাছে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি আছে।”

‎তবে তার এই দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে যখন বিষয়টি যাচাই করতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

‎জেলা প্রশাসকের দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য

‎জেলা প্রশাসক ডা. ইলিয়াস মিয়া জানান- “সুরমা নদী বা আশপাশের কোনো স্থাপনা থেকে এ ধরনের মাটি উত্তোলনের জন্য কোনো পারমিশন দেওয়া হয়নি। মাটি কোথায় থেকে এসেছে এবং কীভাবে এসেছে—তা খতিয়ে দেখা হবে।”

‎তার এই মন্তব্য প্রকৌশলী গোলাম আজমের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি করেছে।

‎সদর এসিল্যান্ডের অজ্ঞতা!

‎মাটি উত্তোলন ও পরিবহনের বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ সদর এসিল্যান্ড আদিত্য পাল স্পষ্টভাবে বলেন- “এই বিষয়ে আমার কোনো তথ্য নেই। আমার কাছে কোনো আবেদন বা চিঠি আসেনি। আমি কিছুই জানি না। জেলা প্রশাসক স্যার এর সাথে যোগাযোগ করেন”

‎প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের এমন অজ্ঞতা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তোলে।

‎মাটি কোথা থেকে এলো—বড় প্রশ্ন

‎সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত মাটি উত্তোলনের জন্য সাধারণত পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু এই ঘটনায় দেখা গেছে-

‎প্রশাসনের কাছে কোনো পারমিশন নেই,এসি ল্যান্ড জানেন না, জেলা প্রশাসকও বিষয়টি তদন্ত করছেন, অথচ প্রকল্পস্থলে ইতোমধ্যে শতাধিক স্টিল বডি দিয়ে মাটি এনে রাখা হয়েছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে সুরমা নদীসহ আশপাশের চর এলাকা থেকে মাটি উত্তোলন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি নদীর পরিবেশ ও চর এলাকার স্থিতিস্থাপকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‎কারা এই মাটি ব্যবসায়ী?

‎প্রকৌশলী গোলাম আজমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জগত বাবু, যুবদল নেতা অলিউর রহমান। এই দুই ব্যক্তি মাটি সরবরাহে জড়িত। তবে তাদের কাছে কোনো ধরনের অনুমতি ছিল কিনা—তা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে।

‎জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাটি উত্তোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তি,স্থানীয় প্রভাবশালী,ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে।

‎স্থানীয়দের দাবি—স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি এলাকাবাসীর দাবি,সুরমা নদীর পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করা চার লেন কাজের নামে নদী ও সরকারের রাজস্ব লুটপাটের তদন্ত অনুমতিহীনভাবে মাটি সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা।