হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের নতুন নীতি: যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তিতে তেহরানের কঠিন শর্ত
- আপডেট সময়ঃ ১১:৩৫:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন এবং কঠোর নীতিমালা ঘোষণা করেছে ইরান।
চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এখন থেকে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ যাতায়াত করতে পারবে।
তবে এই চলাচল কোনোভাবেই অবাধ হবে না; বরং প্রতিটি জাহাজকে ইরানের সরাসরি অনুমতি গ্রহণ করতে হবে এবং তেহরান নির্ধারিত বিশেষ নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় সংলাপের প্রাক্কালে রুশ বার্তা সংস্থা ‘তাস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই নতুন ব্যবস্থার কথা নিশ্চিত করেন।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, সংঘাত শুরুর আগের স্থিতাবস্থায় ফেরার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। এখন থেকে প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং তদারকির দায়িত্ব পালন করবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসি। আঞ্চলিক সকল পক্ষকে ইতিমধ্যে এই নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রণালির নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সীমিত চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান বেশ কিছু কঠিন শর্তারোপ করেছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিদেশে জব্দ করা সমস্ত আর্থিক সম্পদ অবশ্যই অবমুক্ত করতে হবে। এর পাশাপাশি, যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি বা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করতে হলে কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা যথেষ্ট নয়; বরং একে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
ইরান সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি তাদের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান না ঘটে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পুনরায় লড়াই শুরু করবে এবং এবারের সংঘাত আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র হবে।
নিরাপত্তা ইস্যুর পাশাপাশি সামরিক ও কৌশলগত বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে তেহরান। তারা দাবি করেছে যে, এই দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে আলোচিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রসঙ্গে ইরানের দাবি, তারা বর্তমানে চুক্তির লিখিত শর্তাবলি মেনেই তাদের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তেহরানের এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, তারা কোনো ধরনের বাহ্যিক চাপের মুখে নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসতে রাজি নয়।
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের এই পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের দাবি ছিল, দুই পক্ষই প্রায় সব বিরোধপূর্ণ ইস্যুর সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং ওয়াশিংটন বর্তমানে ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। মূলত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের ইতিবাচক মনোভাবের ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, ইরানও নিশ্চিত করেছে যে, তাদের ভূখণ্ডের ওপর কোনো হামলা না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের ‘প্রতিরক্ষামূলক’ সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে।
আঞ্চলিক এই উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আজ ইসলামাবাদে উভয় পক্ষকে এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচনা সরাসরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদের এই বৈঠকের ফলাফলই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস বইবে নাকি পরিস্থিতি পুনরায় ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে মোড় নেবে।
তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন













