হাওরাঞ্চলে টেকসই উন্নয়নের নতুন মডেল: টিআর-কাবিটা প্রকল্পে সিসি সড়ক নির্মাণে সফল তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৫২ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের দুর্গম হাওর জনপদ তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।
সচরাচর টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের আওতায় কেবল মাটির কাজ হলেও, এবার সেই প্রথা ভেঙে স্থায়ী সিসি (সিমেন্ট-কংক্রিট) সড়ক নির্মাণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়।
সরকারের এই সীমিত বরাদ্দে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের এই মডেল হাওরাঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় মোট ২১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। বরাদ্দের সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে গ্রামীণ সড়ক পাকা করণে। মোট প্রকল্পের মধ্যে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ী করা হয়েছে, আর ১১৫টি প্রকল্পে মাটির কাজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে যাতায়াত ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০টি ছোট-বড় সিসি সড়ক ও কালভার্ট নির্মিত হয়েছে। অন্যদিকে, তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০৭টি প্রকল্পের কাজ চলমান। এই প্রকল্পের আওতায় কেবল সড়ক নয়, বরং মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নও করা হয়েছে।
হাওরাঞ্চলের প্রধান সমস্যা হলো বর্ষাকালে মাটির রাস্তা দ্রুত ভেঙে যায় এবং প্রতি বছর নতুন করে সংস্কার করতে হয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার পিআইও অফিসের কারিগরি তত্ত্বাবধানে ৭ থেকে ১২ ফুট প্রস্থের এবং ৫০০ থেকে ১০০০ মিটার দৈর্ঘ্যের পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিলন মিয়া জানান, তার এলাকায় শিলডোয়ার ও রাজাপাড়া গ্রামের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো এখন পাকা। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন এবং ছাত্রছাত্রীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া অনেক সহজ হয়েছে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “স্বল্প বাজেটে সিসি সড়ক নির্মাণ করা একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে সঠিক তদারকির কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। বাজেট আরও বৃদ্ধি করলে এবং ইউনিয়ন পরিষদকে কাজের স্বাধীনতা দিলে গ্রাম বাংলার চেহারা পাল্টে যাবে।” একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন শ্রীপুর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আলী হায়দার। তিনি মনে করেন, বরাদ্দের সুষম বণ্টন হলে হাওরের প্রতিটি গ্রাম মূল সড়কের সাথে টেকসইভাবে যুক্ত হতে পারবে।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের কারিগর তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ মুহিবুল ইসলাম। তিনি জানান, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি এমন কিছু করতে যা দৃশ্যমান এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। মাটির কাজের চেয়ে সিসি সড়ক হাওরাঞ্চলের জন্য বেশি কার্যকর। এতে সরকারি অর্থের অপচয় কমে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়।”
এই সিসি সড়কগুলো নির্মাণের ফলে হাওরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।





















