০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

১০ বছর বয়সী গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, বাসা থেকে পালিয়ে আশ্রয় পাশের বাড়িতে

স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • / ৮৩ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা ১০ বছর বয়সী ছোট্ট শিশু ফাতেমা সুনামগঞ্জ শহরের একটি নামকরা নার্সিং ইনস্টিটিউট—আনোয়ার মুজাহিদ নার্সিং ইনস্টিটিউট—এর প্রিন্সিপালের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। 

‎পশ্চিম সুলতানপুর একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে সে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎সোমবার (১ জুলাই) বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশু ফাতেমা বাসা থেকে বের হয়ে পাশের একটি বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। প্রতিবেশীরা বিষয়টি লক্ষ্য করে তাকে নিরাপদে রাখে এবং পরে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে।

‎এ সময় মেয়েটির মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। মেয়েকে বাসায় পাঠানো হয়েছে বলেও আমাকে জানানো হয়নি।”

‎অন্যদিকে, প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে জানান, “আমি সিসি ক্যামেরা চেক করছি, মেয়েকে কোথাও পাচ্ছি না।”

‎তবে শিশুটি প্রায় ৩ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি একটু পর থানায় যাবো।”

‎বাসার মালিক এর সাথে কথা বলে জানা যায় মেয়েকে মারধরের বিষয় টা তিনি যানেন,তিনি বলেন মাঝে মাঝে মারধর করেন এইটা যানি।

‎প্রিন্সিপাল যখন যান্তে পারেন শিশুটি পাশের বাসায় আছে থাকে নিতে আসলে,বাচ্চাটিকে কেনো মেরেছেন যানতে চাইলে তিনি কোন কথার উত্তর না দিয়ে সাথে সাথে স্থান ত্যাগ করে চলে যান।

‎ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হলে, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার মুজাহিদ নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপালকে থানায় নিয়ে আসে।

‎এ সময় শিশুটির মাকে দিরাই থেকে খবর দেওয়া হলে তিনি থানায় আসেন। তবে থানায় এসে তিনি কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের না করে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

যার ‎ফলে ঘটনাটি থানায় মামলা হিসেবে গৃহীত হয়নি।

‎এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এত অল্প বয়সী একটি শিশুকে কেন বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়েছে এবং বারবার নির্যাতনের শিকার হলেও কেন কেউ তার পাশে দাঁড়ায়নি ??

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

১০ বছর বয়সী গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, বাসা থেকে পালিয়ে আশ্রয় পাশের বাড়িতে

আপডেট সময়ঃ ০৮:০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

‎সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা ১০ বছর বয়সী ছোট্ট শিশু ফাতেমা সুনামগঞ্জ শহরের একটি নামকরা নার্সিং ইনস্টিটিউট—আনোয়ার মুজাহিদ নার্সিং ইনস্টিটিউট—এর প্রিন্সিপালের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। 

‎পশ্চিম সুলতানপুর একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে সে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎সোমবার (১ জুলাই) বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশু ফাতেমা বাসা থেকে বের হয়ে পাশের একটি বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। প্রতিবেশীরা বিষয়টি লক্ষ্য করে তাকে নিরাপদে রাখে এবং পরে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে।

‎এ সময় মেয়েটির মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। মেয়েকে বাসায় পাঠানো হয়েছে বলেও আমাকে জানানো হয়নি।”

‎অন্যদিকে, প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে জানান, “আমি সিসি ক্যামেরা চেক করছি, মেয়েকে কোথাও পাচ্ছি না।”

‎তবে শিশুটি প্রায় ৩ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি একটু পর থানায় যাবো।”

‎বাসার মালিক এর সাথে কথা বলে জানা যায় মেয়েকে মারধরের বিষয় টা তিনি যানেন,তিনি বলেন মাঝে মাঝে মারধর করেন এইটা যানি।

‎প্রিন্সিপাল যখন যান্তে পারেন শিশুটি পাশের বাসায় আছে থাকে নিতে আসলে,বাচ্চাটিকে কেনো মেরেছেন যানতে চাইলে তিনি কোন কথার উত্তর না দিয়ে সাথে সাথে স্থান ত্যাগ করে চলে যান।

‎ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হলে, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার মুজাহিদ নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপালকে থানায় নিয়ে আসে।

‎এ সময় শিশুটির মাকে দিরাই থেকে খবর দেওয়া হলে তিনি থানায় আসেন। তবে থানায় এসে তিনি কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের না করে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

যার ‎ফলে ঘটনাটি থানায় মামলা হিসেবে গৃহীত হয়নি।

‎এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এত অল্প বয়সী একটি শিশুকে কেন বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়েছে এবং বারবার নির্যাতনের শিকার হলেও কেন কেউ তার পাশে দাঁড়ায়নি ??