০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

সোনাপুর বেদে পল্লীতে সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশতাধিক আহত, ভাংচুর ও লুটপাট

স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:২২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / ১৬৫ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের সোনাপুর বেদে পল্লীতে সংঘর্ষে অন্তত কমপক্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোকজন আহত সহ ১২টি বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

‎সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২ টায় সোনাপুরস্থ বেদে পল্লীর আলম মিয়া গং ও জাহাঙ্গীর হোসেন গংদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে।

‎সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করা হয়েছে। কতর্ব্যরত চিকিৎসক গুরুত্বর আহত জাকারিয়া আহমেদ (১৮)কে আশংকা জনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছেন।

‎আহতরা হলেন,কালো মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০) রিয়াজ মিয়া (২৯) নিমার্ণ আলী (২২) সাদ্দাম হোসেন (৩২) নেছার আহমেদ (৩০) জাহিনুর (২৫) নাসিম (২৬) পারভেজ আহমেদ (২২) আশিক মিয়া (২৫) আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী রচনা বেগম (৩০) জামাল মিয়া (৩৫) ইলাস মিয়া (২৫) আলমগীর হোসেন (২৭) শরীফ উদ্দীন (২৩) পারভেজ আহমেদ-২ (২৫) উজালা বেগম (৫০) নাজমা বেগম (৩০) তাসনিম বেগম (২৫)।

‎এদিকে অপর পক্ষের প্রাথমিক আহতরা হলেন,জহুরুল ইসলাম চৌধুরী (৩০) রাজু আহমেদ (৩১) আবিদা বেগম (২০) টিটু মিয়া (২৫) সুমন মিয়া (৩০) নেছার মিয়া (৩০) এমরান হোসেন (২৫) এনামুল হক (২৬)।

‎এ ঘটনায় সদর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

‎স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘটনার দিন দুপুরে ইজাজুল ইসলামের দুই ভাই আফছার হোসেন-কাউসার হোসেন সদাই করার জন্য সোনাপুর বাজারে যাওয়া মাত্রই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার উপর হামলা চালায় চাচা শ্বশুর আলম মিয়া গংরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীর হোসেন,নেছার উদ্দিন,মিন্টু মিয়া,বুরহান উদ্দিন,তৌহিদ মিয়া,সালাম মিয়া,খেজুর মিয়া,দেলোয়ার হোসেন,আনোয়ার হোসেন,ইলাস মিয়া,আলম মিয়া,জহুরুল ইসলাম চৌধুরী,ইমরান হোসেনের বসতবাড়িও ব্যাপক ভাংচুর হয়।

‎ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মেরাজ আলীর ছেলে আলম মিয়া, আজিম উদ্দিন, তালিম উদ্দিন, এমরান হোসেন, এনামুল হক বাহিনীরা প্রাণনাশক অস্ত্র সশস্ত্র নিয়ে আমাদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর সহ নগদ টাকা পয়সা ও স্বর্ণ অলংকার ছিনতাই করে নিয়ে যায়। তাদের অর্তকিত হামলায় রিয়া নামের এক বছরের কোাালের শিশুটিকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে।

‎আমাদের নয়টি বসতঘর ভেঙে প্রায় দশ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাই।

‎আলম মিয়ার পক্ষে মো জহুরুল ইসলাম চৌধুরী জানান,পারিবারিক কলহের জেরে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে। আমাদের পক্ষের কয়েকজনের বাড়িঘরও ভাংচুর হয়েছে।

‎সোনাপুর বেদে পল্লীর সমন্বয়ক ডাঃ ফারুক মিয়া জানান, ঘটনার সময় আমি সুনামগঞ্জে ছিলাম। খবর পেয়ে আমি বিষয়টি এসপি স্যারকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন। তারপর আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমাজের প্রায় শতাদিক লোকজন নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। জাহাঙ্গীর হোসেন পক্ষের লোকজন সিলেট এবং সুনামগঞ্জে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের ১০/১২ টি বসতঘরে ভাংচুর হয়েছে। এদিকে আলম পক্ষের কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।

‎সাবেক চেয়ারম্যান ফুল মিয়া জানান,সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের লোকজন আহত এবং বাড়িঘর ভাংচুর হয়েছে। গ্রামের লোকজন নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করব।

‎সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো আবুল কালাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সোনাপুর বেদে পল্লীতে সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশতাধিক আহত, ভাংচুর ও লুটপাট

আপডেট সময়ঃ ০৮:২২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

‎সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের সোনাপুর বেদে পল্লীতে সংঘর্ষে অন্তত কমপক্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোকজন আহত সহ ১২টি বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

‎সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২ টায় সোনাপুরস্থ বেদে পল্লীর আলম মিয়া গং ও জাহাঙ্গীর হোসেন গংদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে।

‎সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করা হয়েছে। কতর্ব্যরত চিকিৎসক গুরুত্বর আহত জাকারিয়া আহমেদ (১৮)কে আশংকা জনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছেন।

‎আহতরা হলেন,কালো মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০) রিয়াজ মিয়া (২৯) নিমার্ণ আলী (২২) সাদ্দাম হোসেন (৩২) নেছার আহমেদ (৩০) জাহিনুর (২৫) নাসিম (২৬) পারভেজ আহমেদ (২২) আশিক মিয়া (২৫) আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী রচনা বেগম (৩০) জামাল মিয়া (৩৫) ইলাস মিয়া (২৫) আলমগীর হোসেন (২৭) শরীফ উদ্দীন (২৩) পারভেজ আহমেদ-২ (২৫) উজালা বেগম (৫০) নাজমা বেগম (৩০) তাসনিম বেগম (২৫)।

‎এদিকে অপর পক্ষের প্রাথমিক আহতরা হলেন,জহুরুল ইসলাম চৌধুরী (৩০) রাজু আহমেদ (৩১) আবিদা বেগম (২০) টিটু মিয়া (২৫) সুমন মিয়া (৩০) নেছার মিয়া (৩০) এমরান হোসেন (২৫) এনামুল হক (২৬)।

‎এ ঘটনায় সদর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

‎স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘটনার দিন দুপুরে ইজাজুল ইসলামের দুই ভাই আফছার হোসেন-কাউসার হোসেন সদাই করার জন্য সোনাপুর বাজারে যাওয়া মাত্রই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার উপর হামলা চালায় চাচা শ্বশুর আলম মিয়া গংরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীর হোসেন,নেছার উদ্দিন,মিন্টু মিয়া,বুরহান উদ্দিন,তৌহিদ মিয়া,সালাম মিয়া,খেজুর মিয়া,দেলোয়ার হোসেন,আনোয়ার হোসেন,ইলাস মিয়া,আলম মিয়া,জহুরুল ইসলাম চৌধুরী,ইমরান হোসেনের বসতবাড়িও ব্যাপক ভাংচুর হয়।

‎ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মেরাজ আলীর ছেলে আলম মিয়া, আজিম উদ্দিন, তালিম উদ্দিন, এমরান হোসেন, এনামুল হক বাহিনীরা প্রাণনাশক অস্ত্র সশস্ত্র নিয়ে আমাদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর সহ নগদ টাকা পয়সা ও স্বর্ণ অলংকার ছিনতাই করে নিয়ে যায়। তাদের অর্তকিত হামলায় রিয়া নামের এক বছরের কোাালের শিশুটিকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে।

‎আমাদের নয়টি বসতঘর ভেঙে প্রায় দশ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাই।

‎আলম মিয়ার পক্ষে মো জহুরুল ইসলাম চৌধুরী জানান,পারিবারিক কলহের জেরে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে। আমাদের পক্ষের কয়েকজনের বাড়িঘরও ভাংচুর হয়েছে।

‎সোনাপুর বেদে পল্লীর সমন্বয়ক ডাঃ ফারুক মিয়া জানান, ঘটনার সময় আমি সুনামগঞ্জে ছিলাম। খবর পেয়ে আমি বিষয়টি এসপি স্যারকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন। তারপর আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমাজের প্রায় শতাদিক লোকজন নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। জাহাঙ্গীর হোসেন পক্ষের লোকজন সিলেট এবং সুনামগঞ্জে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের ১০/১২ টি বসতঘরে ভাংচুর হয়েছে। এদিকে আলম পক্ষের কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।

‎সাবেক চেয়ারম্যান ফুল মিয়া জানান,সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের লোকজন আহত এবং বাড়িঘর ভাংচুর হয়েছে। গ্রামের লোকজন নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করব।

‎সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো আবুল কালাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।