০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতার বাসা থেকে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • / ৯০ বার পড়া হয়েছে।

জেলা শহরের বাঁধনপাড়া এলাকায় সাবেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতার বাসা থেকে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ চেয়ারম্যানের ছেলে মেয়েটিকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম রেজাউল আলম নিক্কু। তিনি পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।


নিহত গৃহকর্মীর নাম চম্পা বেগম (১৯)। নিহত জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম বাদশা মিয়া।


প্রতক্ষদর্শীরা জানান, ওই বাড়ির মালিকের ছেলে শুভ-ই প্রথমে চম্পার মরদেহ বাসার জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি প্রথমে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। পরে তিনি ঢাকায় অবস্থানরত চম্পার চাচাতো বোনকে বিষয়টি জানালে, সেখান থেকেই খবর যায় নিহত চম্পার পরিবারের কাছে।


চম্পার বাবা বাদশা মিয়া বললেন, ‘তিন বছর আগে চম্পা ওই বাড়িতে কাজ করতো। তখনও ওদের পরিবারের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। তাই আমরা তাকে বাড়ি নিয়ে আসি। কিন্তু পরে বাড়িওয়ালা নিক্কু চেয়ারম্যানের অনুরোধে রমজান মাসে মেয়েকে আবার সেখানে পাঠাই। এরপর কয়েকদিন ধরে মারধরের খবর দিচ্ছিলো। এবার আর বেঁচে ফিরল না।’


চম্পার চাচা পিয়ার আলী বলেন, ‘চেয়ারম্যানের ছেলে শুভ মেয়েটাকে মেরে জানালাতে লটকিয়ে রেখেছে। মেয়েটি থাকতো নিচ তলায়, শুভ’র রুমের জানালায় লটকানো পাওয়া গেছে। আমরা আসার পর কাউকে পাই নি। তারা সবাই পালিয়েছে।’


অভিযুক্ত শুভ’র বড় ভাই অ্যাড. ইশতিয়াক আলম পিয়াল বললেন, সকালে এই ঘটনা দেখে পুলিশকে ফোন দিয়েছি। পরে জানতে পারলাম এক ছেলের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক ছিলো। রাতে সে নাকি ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছে। স্ট্যাটাস দেখলেও বুঝা যাবে, কীভাবে কী হয়েছে।


ঘটনাস্থলে তিমন চৌধুরী বলেন, রেজাউল আলম নিক্কুর পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে দেখছি। তাদের ব্যবহার খারাপ, এটি কেউ বলতে পারবেন না। তবুও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে আসা করি।


এই ঘটনার বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মনিবুর রহমান বললেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক কারণও জানা যাবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতার বাসা থেকে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

জেলা শহরের বাঁধনপাড়া এলাকায় সাবেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতার বাসা থেকে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ চেয়ারম্যানের ছেলে মেয়েটিকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম রেজাউল আলম নিক্কু। তিনি পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।


নিহত গৃহকর্মীর নাম চম্পা বেগম (১৯)। নিহত জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম বাদশা মিয়া।


প্রতক্ষদর্শীরা জানান, ওই বাড়ির মালিকের ছেলে শুভ-ই প্রথমে চম্পার মরদেহ বাসার জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি প্রথমে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। পরে তিনি ঢাকায় অবস্থানরত চম্পার চাচাতো বোনকে বিষয়টি জানালে, সেখান থেকেই খবর যায় নিহত চম্পার পরিবারের কাছে।


চম্পার বাবা বাদশা মিয়া বললেন, ‘তিন বছর আগে চম্পা ওই বাড়িতে কাজ করতো। তখনও ওদের পরিবারের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। তাই আমরা তাকে বাড়ি নিয়ে আসি। কিন্তু পরে বাড়িওয়ালা নিক্কু চেয়ারম্যানের অনুরোধে রমজান মাসে মেয়েকে আবার সেখানে পাঠাই। এরপর কয়েকদিন ধরে মারধরের খবর দিচ্ছিলো। এবার আর বেঁচে ফিরল না।’


চম্পার চাচা পিয়ার আলী বলেন, ‘চেয়ারম্যানের ছেলে শুভ মেয়েটাকে মেরে জানালাতে লটকিয়ে রেখেছে। মেয়েটি থাকতো নিচ তলায়, শুভ’র রুমের জানালায় লটকানো পাওয়া গেছে। আমরা আসার পর কাউকে পাই নি। তারা সবাই পালিয়েছে।’


অভিযুক্ত শুভ’র বড় ভাই অ্যাড. ইশতিয়াক আলম পিয়াল বললেন, সকালে এই ঘটনা দেখে পুলিশকে ফোন দিয়েছি। পরে জানতে পারলাম এক ছেলের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক ছিলো। রাতে সে নাকি ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছে। স্ট্যাটাস দেখলেও বুঝা যাবে, কীভাবে কী হয়েছে।


ঘটনাস্থলে তিমন চৌধুরী বলেন, রেজাউল আলম নিক্কুর পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে দেখছি। তাদের ব্যবহার খারাপ, এটি কেউ বলতে পারবেন না। তবুও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে আসা করি।


এই ঘটনার বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মনিবুর রহমান বললেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক কারণও জানা যাবে।