প্রাথমিক সার্জারি পরবর্তী ওসমান হাদিকে নেওয়া হলো এভারকেয়ার হাসপাতালে
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৪৫ বার পড়া হয়েছে।
ওসমান হাদির মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
মাথায় গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রাজধানীর এভারকেয়ারে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল থেকে হাদিকে নিয়ে যাত্রা করে অ্যাম্বুলেন্স। রাত ৮টা ৬ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছায়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আজ দুপুরে বিজয়নগরে তাঁকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁর মাথায় বুলেটের আঘাত আছে। বুকে ও পায়েও আঘাত আছে। ধারণা করা হচ্ছে পায়ের আঘাতটা রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে হতে পারে। আমরা ঢাকা মেডিকেলে একটা প্রাথমিক সার্জারি (অস্ত্রোপচার) করেছি।’
আসাদুজ্জামান জানান, পরিবারের সম্মতিতেই ওসমান হাদিকে এভারকেয়ারে নেওয়া হয়। পরিবার প্রথম দিকে সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এভারকেয়ারে নেওয়ার কথা বলে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বেলা ২টা ২৫ মিনিটে একটি মোটরসাইকেলে দুর্বৃত্তরা আসে। মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির পেছনের রিকশায় ছিলেন মো. রাফি। তিনি ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দেন।
মো. রাফি প্রথম আলোকে বলেন, ‘জুমার নামাজ শেষে আমরা হাইকোর্টের দিকে আসছিলাম। রিকশায় ছিলাম। বিজয়নগরে আসতেই একটা মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে হাদি ভাইয়ের ওপর গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। আমি ভাইয়ের পেছনের রিকশায় ছিলাম।’
এদিকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ওসমান হাদির গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
হামলার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এদিকে, ওসমান হাদির পরিবার ও সমর্থকরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
এদিকে, হাদির সমর্থকরা এ ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। তারা এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি তুলেছেন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে এবং তারা এ ধরনের সহিংসতার অবসান চেয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, এ ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং তারা দ্রুততার সাথে কাজ করছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য তার পরিবার ও বন্ধুরা তার পাশে রয়েছেন এবং তারা তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।
তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো











