সুনামগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময়ঃ ০২:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১০১ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জে ‘দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করো, হাওরাঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত রো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এরপর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা হাওরের পরিবেশ, কৃষি ও জনমানুষের অধিকার রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পরিকল্পনার দাবি জানান।
সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক শাহ কামালের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সুহেল আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদুল ইসলাম মজনু।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “হাওর ও প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচব। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ও সংগঠিত হতে হবে। নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় দুর্নীতির বলয় ভেঙে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।” বক্তারা নদী ও হাওর রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি মাসে সেমিনার আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা ধূর্জটি কুমার বসু, সৈয়দ মুহিবুল ইসলাম, যুগেশ্বর চন্দ্র রায়, চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সুকেন্দু সেন, ইকবাল কাগজী, অ্যাডভোকেট এনাম আহমেদ, অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা মানিক এবং দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর-এর সম্পাদক পঙ্কজ দে। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু আহমেদ, ওবায়দুল হক মুন্সী ও সদস্য মিজানুল হক সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—হাওরের কৃষি, কৃষক ও মৎস্যজীবীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে জনমত গঠন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবনে সরকারকে উদ্যোগ নিতে বাধ্য করা, নদী ও খনিজ সম্পদ রক্ষায় কার্যকর তদারকি, বোরো ফসল রক্ষায় টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।
সম্মেলন শেষে বক্তারা দেশ ও জাতির স্বার্থে হাওরের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তরকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
এসময় জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে আগত হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





















