দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর যে মতামত কলাম, পাকিস্তানে তুমুল বিতর্ক উসকে দিল
- আপডেট সময়ঃ ১১:৪৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৯ বার পড়া হয়েছে।
সাপ্তাহিক কলামে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন সুপরিচিত সাংবাদিক মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি ফরেন পলিসিতে এসব নিয়ে লিখেছেন। তাতে জানিয়েছেন, এ সময়ে পাকিস্তানে একটি মন্তব্য কলাম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরে ওই পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সেই কলাম তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলে।
তিনি লিখেছেন, পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক পাকিস্তানি পিএইচডি শিক্ষার্থীর লেখা একটি মতামত কলাম প্রকাশ করে। তা পরে পত্রিকার ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেয়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
জোরাইন নিযামানি পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করে লিখেছেন, ক্ষমতাসীন অভিজাত শ্রেণি ও দেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক গভীর বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। এই সমালোচনা নতুন কিছু নয়। তবে লেখাটির খোলামেলা ভাষা এবং বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই)-এর শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উপস্থিতির কারণে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। প্রবন্ধটি শুরু হয়েছিল এভাবে-
‘যেসব ক্ষমতাধর বয়স্ক পুরুষ ও নারী এখন ক্ষমতায় আছেন, তাদের সময় শেষ। তরুণ প্রজন্ম আপনাদের কথায় আর আস্থা রাখছে না।’
এটি এত তরুণ পাকিস্তানির কাছে সাড়া ফেলেছে যে, তা থেকেই বোঝা যায় দেশের রাজনীতি নিয়ে মানুষের হতাশা কত গভীর। তবে বর্তমান দমনমূলক পরিস্থিতিতে এই ক্ষোভ প্রকাশের পথ খুবই সীমিত। পাকিস্তানে সরকারের বিরুদ্ধে বড় আকারের গণবিক্ষোভের সম্ভাবনা আপাতত কম। কারণ শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এমন পরিস্থিতি আগেই নস্যাৎ করে দিতে পারে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক তরুণের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ ভবিষ্যতে দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পুনরুদ্ধারে পর্যটনে দৃষ্টি শ্রীলঙ্কার
সোমবার শ্রীলঙ্কার পর্যটনমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ ঘোষণা করেন, সরকার ২০২৬ সালে ৩০ লাখ পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে। নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির পর পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টায় এই খাতের আয় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গত বছর শ্রীলঙ্কায় ২৩.৬ লাখ পর্যটক যান। যা একটি নতুন রেকর্ড। এ বছর পর্যটনখাতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার উদ্যোগও শুরু করেছে সরকার, যা গত বছরের ৩২৯ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক বেশি। ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া ৬৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটায় এবং ৪.১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করে। গত মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২.৯ শতাংশে নামিয়ে আনে। পুনরুদ্ধারে পর্যটন আয়ের ওপর নির্ভরতা দেখায় যে, খাতটির গুরুত্ব যেমন বেশি, তেমনি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। দুর্যোগের পর এ পর্যন্ত ২২টি দেশ শ্রীলঙ্কাকে সহায়তা দিয়েছে। তবে জাতিসংঘ বলছে, আরও অনেক সহায়তা প্রয়োজন। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত শিশুদের জন্য ইউনিসেফের জরুরি তহবিলের ৭.৮ মিলিয়ন ডলারেরও কম অর্ধেক অর্থ প্রতিশ্রুত বা হাতে পেয়েছে।
আড়ালে থাকা খবর
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলিও গত সেপ্টেম্বরের আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের তদন্তে গঠিত সরকারি কমিশনে লিখিত জবানবন্দি জমা দিয়েছেন। তাতে বলেছেন, অভিযানের পর তিনি পদত্যাগ করেন। বিবৃতির বিষয়বস্তু স্পষ্ট না হলেও, ওলিও এটিকে আগের মতো অসাংবিধানিক বলে প্রত্যাখ্যান না করে সহযোগিতায় রাজি হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। জাতীয় নির্বাচন মাত্র দুই মাস পর এবং অনেক নেপালি তরুণ ও নতুন নেতৃত্বকে ক্ষমতায় দেখতে আগ্রহী। যদিও কয়েকটি নতুন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু গত বছরের আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত, তবু বড় কোনো পুরনো দল ক্ষমতায় ফিরতে পারে। ওলিও নিজেও আবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তার এই সহযোগিতা, যারা চান না তিনি ক্ষমতায় ফিরুন, তাদের উদ্বেগ কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারে।
আঞ্চলিক মতামতধারা
ডেইলি স্টার-এ অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন খালেদা জিয়ার অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার বিশ্লেষণ করে লিখেছেন:
‘১৯৯১ সালে শুরু হওয়া তার (খালেদা জিয়া) মেয়াদটি এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পড়েছিল। তখন বাংলাদেশ ধীরে ধীরে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি থেকে বাজারমুখী, রপ্তানিনির্ভর উন্নয়ন মডেলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এটি রাষ্ট্র, বাজার ও সমাজ- এই তিন খাতের সম্পর্কের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বহন করে।’
এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে পিএইচডি প্রার্থী খুশবু ফরিদ পাকিস্তানে পারমাণবিক শক্তিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন: ‘পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার পাকিস্তানের সামগ্রিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী প্রকল্প হতে পারে, যেখানে এখনো লক্ষ লক্ষ মানুষ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে অর্থনীতিবিদ মদন সাবনাভিস ভারতের এক শতাংশেরও কম মূল্যস্ফীতি হারকে সতর্ক সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করে লিখেছেন: ‘কিছু পরিবার এ থেকে উপকৃত হলেও অনেক উৎপাদনকারী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমাদের অর্থনীতিকে সচল রাখতে ন্যূনতম যে মাত্রার মুদ্রাস্ফীতি প্রয়োজন, তা প্রায় ৪ শতাংশ, যা আমাদের আর্থিক নীতির লক্ষ্য মাত্রা।’
সাপ্তাহিক কলামে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করে মাইকেল কুগেলম্যান আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই অঞ্চলের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক পরিবর্তনগুলো গভীর প্রভাব ফেলছে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেছেন, কিভাবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
নেপালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কুগেলম্যান উল্লেখ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলির সহযোগিতা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি নেপালের রাজনৈতিক সংস্কারে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, যেখানে তরুণ নেতৃত্বের উত্থান এবং নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের সময়কালের বিশ্লেষণে ফাহমিদা খাতুনের মতামত তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সময়কালে দেশের অর্থনৈতিক নীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে খুশবু ফরিদের মতামত তুলে ধরে কুগেলম্যান বলেন, এটি দেশের উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতের মূল্যস্ফীতি নিয়ে মদন সাবনাভিসের বিশ্লেষণও তুলে ধরে কুগেলম্যান বলেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য কিছু মাত্রার মুদ্রাস্ফীতি অপরিহার্য।
এই বিশ্লেষণগুলো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জটিলতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে, যা এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করতে পারে।
তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন











