দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপির প্রত্যাবর্তন: জয়ের মুকুটে ৭ নারীর উজ্জ্বল সাফল্য
- আপডেট সময়ঃ ০৯:২৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৬ বার পড়া হয়েছে।
দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। তবে এবারের জয়ের সবচেয়ে আলোচিত এবং ইতিবাচক দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে নারী প্রার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য।
বিএনপি মনোনীত ছয়জন নারী প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী সাবেক এক বিএনপি নেত্রীসহ মোট সাতজন নারী সরাসরি ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতির চিরাচরিত বলয় ভেঙে তৃণমূল থেকে নারীদের এই উঠে আসা দেশের গণতন্ত্র ও সংসদীয় রাজনীতির জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।
তৃণমূল থেকে রাজপথ: বিজয়ী হলেন যারা-
এবারের নির্বাচনে বিএনপির টিকেটে বিজয়ী ছয় নারী প্রার্থীর প্রত্যেকেই নিজ নিজ আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তারা হলেন:
* আফরোজা খান রিতা (মানিকগঞ্জ-৩): প্রয়াত প্রবীণ নেতা হারুনুর রশিদ খান মুন্নুর কন্যা রিতা তার বাবার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন।
* ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো (ঝালকাঠি-২): অভিজ্ঞ এই নেত্রী রাজপথের লড়াই পেরিয়ে পুনরায় সংসদের প্রতিনিধিত্ব করার ম্যান্ডেট পেয়েছেন।
* তাহসিনা রুশদীর লুনা (সিলেট-২): নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী লুনা আবেগ ও সাংগঠনিক শক্তির মিশেলে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন।
* শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২): বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে ফরিদপুরের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
* নায়াব ইউসুফ কামাল (ফরিদপুর-৩): বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের কন্যা হিসেবে তিনি পারিবারিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেছেন।
* ফারজানা শারমিন পুতুল (নাটোর-১): নাটোর-১ আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থানকে আরও মজবুত করেছেন তিনি।
স্বতন্ত্র জয়: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
তালিকায় সবচেয়ে চমকপ্রদ নাম ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও তার এই জয় প্রমাণ করে যে, দলের বাইরেও তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং বাগ্মিতা ভোটারদের দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে।
বিএনপির এই বিশাল জয়ে নারী প্রার্থীদের জয়কে দলটির জন্য একটি শক্তিশালী ‘পজিটিভ সিগন্যাল’ হিসেবে দেখছেন সিনিয়র নেতারা। দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, “আমরা চেয়েছিলাম সংসদ নির্বাচনে যোগ্য নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে। সাধারণ মানুষ তাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে, যা প্রমাণ করে দেশের রাজনীতিতে নারীদের নেতৃত্ব এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং অপরিহার্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. এম. এ. হোসেন মনে করেন, “বিএনপির এই ২০ বছর পর ফিরে আসার পেছনে তরুণ ও নারী ভোটারদের বড় ভূমিকা ছিল। সরাসরি ভোটে এতজন নারী প্রার্থীর জয় আগামী দিনের সংসদীয় বিতর্কে এক নতুন প্রাণশক্তি যোগ করবে।”
ত্রয়োদশ সংসদের এই নারী নক্ষত্ররা দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কতটা জোরালো ভূমিকা রাখেন, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় পুরো দেশ।










