সিলেটে বাড়ি ফেরার পথে কৃষককে কুপিয়ে কবজি বিচ্ছিন্ন, খোঁজ মেলেনি বিচ্ছিন্ন অংশের
- আপডেট সময়ঃ ০৭:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৭ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ১২ অক্টোবর ২০২৬
সিলেটের গোয়াইনঘাটে সালিস বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে হারিছ আলী (৫৫) নামের এক কৃষকের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় ধারালো দায়ের কোপে তাঁর ডান হাতের কবজি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া তাঁকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করা হয়।
বর্তমানে তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কামারগ্রাম এলাকার একটি বাঁশঝাড়ের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত হারিছ আলী উপজেলার ফুলতৈছগ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কৃষক।
ঘটনার বিবরণ;
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হারিছ আলী জানান, রোববার রাতে তোয়াকুল বাজারে একটি সালিস বৈঠক শেষে তিনি হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কামারগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তাঁর সামনে থামে।
অটোরিকশা থেকে পাঁচজন লোক দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে নেমে তাঁর ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ করে হঠাৎই ধারালো দা দিয়ে কোপ দেয়। আত্মরক্ষার্থে ডান হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে কোপ লেগে তাঁর ডান হাতের কবজির ওপরের অংশ কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে।
হারিছ আলীর আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা অটোরিকশা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা রাস্তার পাশের খাদ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া হাতের অংশটি সম্পর্কে আহত কৃষক বলেন, “প্রথম কোপেই হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অঝোরে রক্ত পড়তে থাকে। উদ্ধারের সময় স্থানীয়দের বিচ্ছিন্ন অংশটি খুঁজে হাসপাতালে নিয়ে আসার অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু কাটা হাতটি আর পাওয়া যায়নি।”
পূর্বে বিরোধ ও অভিযুক্তরা;
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীদের তিনি চিনতে পেরেছেন। তাঁরা একই গ্রামের এমরান, মোহাম্মদ, বুরহান, নজরুল এবং অটোরিকশাচালক ইমাম। এর মধ্যে এমরান, মোহাম্মদ ও বুরহান পরস্পর ভাই এবং এমরানই সরাসরি ধারালো দা দিয়ে তাঁকে কোপ দেন।
আক্রমণের পেছনের কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, অভিযুক্ত নজরুলের সঙ্গে তাঁর পূর্বশত্রুতা ছিল। গত চৈত্র মাসে (মার্চের দিকে) হারিছ আলীর একটি গরু চুরি হয়। পরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে গরুটি উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন নজরুলই চুরির পেছনে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে পরবর্তীতে সালিস হলেও নজরুল মনে ক্ষোভ জিইয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ আহত কৃষকের।
পরিবারের দুশ্চিন্তা ও পুলিশের পদক্ষেপ;
হাসপাতালে আহত হারিছ আলীকে দেখতে আসা তাঁর ভাগনে আবদুর রশিদ জানান, তাঁর মামা কৃষিকাজ করে সংসার চালান। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ডান হাতটি হারিয়ে ফেলায় তিনি পুরোপুরি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। এখন পুরো পরিবারের দিনযাপন কীভাবে চলবে, তা নিয়ে স্বজনেরা চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল জানান, এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। তবে বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হামলার সঙ্গে জড়িত আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

















