০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে।

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৪ অক্টোবর ২০২৬

 

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম দেবহাটা উপজেলার বড়শান্তা গ্রামের মৃত শামসুর রহমানের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন এবং সাহাবিদের নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে শামীমের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত কিছু কথোপকথন ও মন্তব্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে। ওইদিন রাতে কয়েকজন ব্যক্তি শামীমের বাড়িতে যান। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে বা ক্ষোভের মুখে তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। পরে তার ভাইয়েরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় কুলিয়ার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে ভর্তি করেন।

 

 

পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন কুলিয়ার ওই চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে, সেখানেও দ্বিতীয় দফায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

 

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর হলেও মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে শামীমের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। পরে পুলিশ পাহাড়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।

 

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেবহাটা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই ইব্রাহিম জানান, নিহতের মরদেহ বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন তাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় পাঠায়। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 

বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের অভিমত:

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সচেতন মহল মনে করছে, কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইনেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে মৃত্যু ঘটানো একটি গুরুতর অপরাধ ও বেআইনি কাজ। এ ধরনের সহিংসতা সামাজিক শৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যু

আপডেট সময়ঃ ০৩:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৪ অক্টোবর ২০২৬

 

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম দেবহাটা উপজেলার বড়শান্তা গ্রামের মৃত শামসুর রহমানের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন এবং সাহাবিদের নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে শামীমের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত কিছু কথোপকথন ও মন্তব্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে। ওইদিন রাতে কয়েকজন ব্যক্তি শামীমের বাড়িতে যান। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে বা ক্ষোভের মুখে তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। পরে তার ভাইয়েরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় কুলিয়ার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে ভর্তি করেন।

 

 

পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন কুলিয়ার ওই চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে, সেখানেও দ্বিতীয় দফায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

 

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর হলেও মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে শামীমের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। পরে পুলিশ পাহাড়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।

 

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেবহাটা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই ইব্রাহিম জানান, নিহতের মরদেহ বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন তাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় পাঠায়। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 

বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের অভিমত:

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সচেতন মহল মনে করছে, কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইনেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে মৃত্যু ঘটানো একটি গুরুতর অপরাধ ও বেআইনি কাজ। এ ধরনের সহিংসতা সামাজিক শৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।