০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

জাদুকাটা নদী খুলছে শনিবার, জীবিকার আশায় বুক বাঁধছেন হাজারো শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১০ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৫ অক্টোবর ২০২৬

 

 

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জাদুকাটা নদীতে আবারও ফিরতে যাচ্ছে কর্মচাঞ্চল্য। আগামী শনিবার থেকে নদীতে বালু ও পাথর উত্তোলনের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন স্থানীয় হাজার হাজার শ্রমিক। এতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিক পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে নতুন আশার আলো, ফিরতে শুরু করেছে স্বস্তি।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার থেকেই নদী খুলে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামী শনিবার সকাল থেকেই শ্রমজীবী মানুষরা তাঁদের চিরাচরিত জীবিকার তাগিদে নদীতে নেমে কাজ শুরু করতে পারবেন।

 

জীবিকার মূল চালিকাশক্তি;

জাদুকাটা নদী শুধু একটি নদীই নয়, তাহিরপুর উপজেলার হাজার হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি। নদীর বালু ও পাথর উত্তোলন করেই দিন আনি দিন খাই মানুষগুলো তাঁদের সংসার চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু নানা কারণে দীর্ঘ সময় নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছিলেন নদীনির্ভর এই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী।

 

কর্মসংস্থান হারিয়ে বিগত দিনগুলোতে অনেক পরিবারকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়ায় দৈনিক অভাব-অনটন তাঁদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

 

শ্রমিকের চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ;

নদীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাহিরপুরের শ্রমিক পাড়াগুলোতে যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শনিবার থেকে আবারও কাজে নামতে পারবেন—এই চিন্তায় শ্রমজীবী মানুষের চোখেমুখে দীর্ঘদিন পর স্বস্তির হাসির ঝিলিক দেখা গেছে।

 

স্থানীয় এক শ্রমিক আবেগপ্লুত হয়ে জানান, “দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কেটেছে। শনিবার থেকে নদী খুলছে শুনে মনে হচ্ছে আমাদের বুকে নতুন বাতাস আসলো। এখন অন্তত কাজ করে ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারবো।”

 

প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ;

শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হলে নদীতে হাজারো শ্রমিকের নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এতে কেবল শ্রমিক পরিবারগুলোতেই আর্থিক স্বস্তি ফিরবে না, বরং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এই সংবাদ প্রতিবেদনটিতে বা তাহিরপুরের অন্য কোনো বিষয়ের ওপর আরও তথ্য বা পরিবর্তন প্রয়োজন হলে আমাকে জানাতে পারেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জাদুকাটা নদী খুলছে শনিবার, জীবিকার আশায় বুক বাঁধছেন হাজারো শ্রমিক

আপডেট সময়ঃ ০১:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৫ অক্টোবর ২০২৬

 

 

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জাদুকাটা নদীতে আবারও ফিরতে যাচ্ছে কর্মচাঞ্চল্য। আগামী শনিবার থেকে নদীতে বালু ও পাথর উত্তোলনের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন স্থানীয় হাজার হাজার শ্রমিক। এতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিক পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে নতুন আশার আলো, ফিরতে শুরু করেছে স্বস্তি।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার থেকেই নদী খুলে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামী শনিবার সকাল থেকেই শ্রমজীবী মানুষরা তাঁদের চিরাচরিত জীবিকার তাগিদে নদীতে নেমে কাজ শুরু করতে পারবেন।

 

জীবিকার মূল চালিকাশক্তি;

জাদুকাটা নদী শুধু একটি নদীই নয়, তাহিরপুর উপজেলার হাজার হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি। নদীর বালু ও পাথর উত্তোলন করেই দিন আনি দিন খাই মানুষগুলো তাঁদের সংসার চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু নানা কারণে দীর্ঘ সময় নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছিলেন নদীনির্ভর এই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী।

 

কর্মসংস্থান হারিয়ে বিগত দিনগুলোতে অনেক পরিবারকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়ায় দৈনিক অভাব-অনটন তাঁদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

 

শ্রমিকের চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ;

নদীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাহিরপুরের শ্রমিক পাড়াগুলোতে যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শনিবার থেকে আবারও কাজে নামতে পারবেন—এই চিন্তায় শ্রমজীবী মানুষের চোখেমুখে দীর্ঘদিন পর স্বস্তির হাসির ঝিলিক দেখা গেছে।

 

স্থানীয় এক শ্রমিক আবেগপ্লুত হয়ে জানান, “দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কেটেছে। শনিবার থেকে নদী খুলছে শুনে মনে হচ্ছে আমাদের বুকে নতুন বাতাস আসলো। এখন অন্তত কাজ করে ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারবো।”

 

প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ;

শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হলে নদীতে হাজারো শ্রমিকের নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এতে কেবল শ্রমিক পরিবারগুলোতেই আর্থিক স্বস্তি ফিরবে না, বরং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এই সংবাদ প্রতিবেদনটিতে বা তাহিরপুরের অন্য কোনো বিষয়ের ওপর আরও তথ্য বা পরিবর্তন প্রয়োজন হলে আমাকে জানাতে পারেন।