০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, এমপির স্বজন ও জুলাই হত্যা মামলার আসামির নাম তালিকায়

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৬৪ বার পড়া হয়েছে।

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৬ অক্টোবর ২০২৬

 

কৃষকদের কাছে সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত সার পৌঁছে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব যাদের হাতে যাওয়ার কথা, সেই ডিলার নিয়োগ ঘিরেই শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় উঠে এসেছে নানা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা বাদ পড়েছেন বলে দাবি উঠলেও, অনুমোদিত তালিকায় স্থান পেয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহোদর ও ফুপাতো ভাই, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের স্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা। এমনকি জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবুজ হত্যা মামলার এক এজাহারভুক্ত আসামিও এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন, যা নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

 

হত্যা মামলার আসামির নাম তালিকায়, ছাত্রদলের উদ্বেগ;

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশকৃত অনুমোদিত তালিকায় স্থান পেয়েছেন রাণীশিমুল ইউনিয়নের ‘মেসার্স আলম ট্রেডার্স’-এর পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবুজ হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি। বিগত সরকারের আমলে যুবলীগের সাথে সংশ্লিষ্টতা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

যদিও সিদ্দিকুর রহমানের দাবি, তিনি ইতোমধ্যে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে মামলাটির বাদী ও নিহত সবুজের বড় ভাই মো. সাদ্দাম হোসেন আদালতে নারাজি দেওয়ায় বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এটি পুনঃতদন্ত করছে।

 

আসামির নাম তালিকায় আসার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন রাণীশিমুল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি খন্দকার মো. আছলাম। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. নাঈম হাসান উজ্জল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

 

“দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন সহ্য করে ত্যাগী কর্মীরা পথে বসে গেছে, আর সিদ্দিকুর রহমানের মতো ফ্যাসিস্টরা টাকার কুমির হয়েছে। এই সময়েও তারা যদি ডিলারশিপ পায়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

 

স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাবের চিত্র;

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনুমোদিত তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ:

এমপির পরিবার: শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেলের ছোট ভাই খড়িয়া কাজীরচর ইউনিয়নের ‘মেসার্স হক ব্রাদার্স’-এর মালিক। পাশাপাশি কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়নের ‘নির্মান ট্রেডার্স’-এর মালিক মো. হেদায়েতুল ইসলাম সংসদ সদস্যের ফুপাতো ভাই এবং স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

 

দলীয় নেতার স্ত্রী: শ্রীবরদী পৌরসভার ‘মেসার্স লিখি ট্রেডার্স’-এর স্বাধিকারী মাহমুদা আক্তার তারানা, যিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুর রহিম দুলালের স্ত্রী।

বেনামী ব্যবসায় অভিযোগ: কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের ‘জোবায়ের এন্টারপ্রাইজের’ মালিক মো. জোবায়ের হাসান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা না থাকায় মূল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করবেন উপজেলা পর্যায়ের এক শীর্ষ নেতা।

 

সরকারি চাকরিজীবীর নাম: শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের ‘মেসার্স ইমতিয়াজ মঈন ট্রেডার্স’-এর স্বাধিকারী মনি আক্তারের স্বামী একজন সরকারি চাকরিজীবী বলে জানা গেছে।

 

তালিকাটি প্রকাশ্যে আসার পর শ্রীবরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফজলুল হক চৌধুরী অকুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করে লেখেন, “অভিনন্দন, আমরা সর্বদলীয় লোকদের সারের ডিলার নিয়োগ দিয়েছি। জামাত বাদে।” তার এই মন্তব্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

“১৫ লাখ দিতে চেয়েছিলাম, লিটন ডাবল দেওয়ায় পেয়েছে”

দীর্ঘদিন ধরে সার, বীজ ও কীটনাশক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ আবেদনকারীদের অভিযোগ, গুদামঘর, আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য শর্ত মূল্যায়ন না করে কেবল রাজনৈতিক পরিচয় ও অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।

 

সিংগাবরুণা ইউনিয়নের আবেদনকারী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান বাবুল সরাসরি ঘুষ লেনদেনের বিস্ফোরক দাবি করে বলেন,

“টেহা-পয়সা কম দিবার চাইছিলাম তো, তাই আমাক দেয় নাই। আমি ১৫ লাখ দিবার চাইছিলাম। লিটন ডাবল দিছে, তাই পাইছে।”

 

অন্যান্য আবেদনকারীদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে:

ভাড়া করা গুদামে নিয়োগ: গোশাইপুর ইউনিয়নের আবেদনকারী মো. জাকির হোসেন জানান, নিজস্ব গুদাম ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি বাদ পড়েছেন, কিন্তু ভাড়া করা গুদাম দেখিয়ে অন্যরা নিয়োগ পেয়েছেন।

 

অভিজ্ঞতা উপেক্ষা: কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের আবেদনকারী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুন্নবী ফজু বলেন, “ব্যবসায়ী হয়েও পেলাম না। যাকে দেওয়া হয়েছে সে কমবয়সী, তার আর্থিক সক্ষমতা বা অভিজ্ঞতা কিছুই নেই।”

 

প্রশাসনের বক্তব্য;

সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান আকন্দ জানান, নীতিমালার আলোকেই প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে নাম যাচাই-বাছাই করে জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ জানান, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই সুপারিশের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জন্য মোট ৮৯ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে উপজেলা মনিটরিং কমিটি ১১টি স্থানের জন্য ৩২ জনের একটি তালিকা জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিতে পাঠায়, যা পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। কিন্তু যোগ্যতা ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে স্বজনপ্রীতি ও অর্থের প্রাধান্য দেওয়ায় সাধারণ কৃষক ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, এমপির স্বজন ও জুলাই হত্যা মামলার আসামির নাম তালিকায়

আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৬ অক্টোবর ২০২৬

 

কৃষকদের কাছে সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত সার পৌঁছে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব যাদের হাতে যাওয়ার কথা, সেই ডিলার নিয়োগ ঘিরেই শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় উঠে এসেছে নানা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা বাদ পড়েছেন বলে দাবি উঠলেও, অনুমোদিত তালিকায় স্থান পেয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহোদর ও ফুপাতো ভাই, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের স্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা। এমনকি জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবুজ হত্যা মামলার এক এজাহারভুক্ত আসামিও এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন, যা নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

 

হত্যা মামলার আসামির নাম তালিকায়, ছাত্রদলের উদ্বেগ;

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশকৃত অনুমোদিত তালিকায় স্থান পেয়েছেন রাণীশিমুল ইউনিয়নের ‘মেসার্স আলম ট্রেডার্স’-এর পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবুজ হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি। বিগত সরকারের আমলে যুবলীগের সাথে সংশ্লিষ্টতা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

যদিও সিদ্দিকুর রহমানের দাবি, তিনি ইতোমধ্যে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে মামলাটির বাদী ও নিহত সবুজের বড় ভাই মো. সাদ্দাম হোসেন আদালতে নারাজি দেওয়ায় বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এটি পুনঃতদন্ত করছে।

 

আসামির নাম তালিকায় আসার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন রাণীশিমুল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি খন্দকার মো. আছলাম। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. নাঈম হাসান উজ্জল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

 

“দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন সহ্য করে ত্যাগী কর্মীরা পথে বসে গেছে, আর সিদ্দিকুর রহমানের মতো ফ্যাসিস্টরা টাকার কুমির হয়েছে। এই সময়েও তারা যদি ডিলারশিপ পায়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

 

স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাবের চিত্র;

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনুমোদিত তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ:

এমপির পরিবার: শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেলের ছোট ভাই খড়িয়া কাজীরচর ইউনিয়নের ‘মেসার্স হক ব্রাদার্স’-এর মালিক। পাশাপাশি কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়নের ‘নির্মান ট্রেডার্স’-এর মালিক মো. হেদায়েতুল ইসলাম সংসদ সদস্যের ফুপাতো ভাই এবং স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

 

দলীয় নেতার স্ত্রী: শ্রীবরদী পৌরসভার ‘মেসার্স লিখি ট্রেডার্স’-এর স্বাধিকারী মাহমুদা আক্তার তারানা, যিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুর রহিম দুলালের স্ত্রী।

বেনামী ব্যবসায় অভিযোগ: কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের ‘জোবায়ের এন্টারপ্রাইজের’ মালিক মো. জোবায়ের হাসান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা না থাকায় মূল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করবেন উপজেলা পর্যায়ের এক শীর্ষ নেতা।

 

সরকারি চাকরিজীবীর নাম: শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের ‘মেসার্স ইমতিয়াজ মঈন ট্রেডার্স’-এর স্বাধিকারী মনি আক্তারের স্বামী একজন সরকারি চাকরিজীবী বলে জানা গেছে।

 

তালিকাটি প্রকাশ্যে আসার পর শ্রীবরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফজলুল হক চৌধুরী অকুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করে লেখেন, “অভিনন্দন, আমরা সর্বদলীয় লোকদের সারের ডিলার নিয়োগ দিয়েছি। জামাত বাদে।” তার এই মন্তব্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

“১৫ লাখ দিতে চেয়েছিলাম, লিটন ডাবল দেওয়ায় পেয়েছে”

দীর্ঘদিন ধরে সার, বীজ ও কীটনাশক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ আবেদনকারীদের অভিযোগ, গুদামঘর, আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য শর্ত মূল্যায়ন না করে কেবল রাজনৈতিক পরিচয় ও অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।

 

সিংগাবরুণা ইউনিয়নের আবেদনকারী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান বাবুল সরাসরি ঘুষ লেনদেনের বিস্ফোরক দাবি করে বলেন,

“টেহা-পয়সা কম দিবার চাইছিলাম তো, তাই আমাক দেয় নাই। আমি ১৫ লাখ দিবার চাইছিলাম। লিটন ডাবল দিছে, তাই পাইছে।”

 

অন্যান্য আবেদনকারীদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে:

ভাড়া করা গুদামে নিয়োগ: গোশাইপুর ইউনিয়নের আবেদনকারী মো. জাকির হোসেন জানান, নিজস্ব গুদাম ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি বাদ পড়েছেন, কিন্তু ভাড়া করা গুদাম দেখিয়ে অন্যরা নিয়োগ পেয়েছেন।

 

অভিজ্ঞতা উপেক্ষা: কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের আবেদনকারী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুন্নবী ফজু বলেন, “ব্যবসায়ী হয়েও পেলাম না। যাকে দেওয়া হয়েছে সে কমবয়সী, তার আর্থিক সক্ষমতা বা অভিজ্ঞতা কিছুই নেই।”

 

প্রশাসনের বক্তব্য;

সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান আকন্দ জানান, নীতিমালার আলোকেই প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে নাম যাচাই-বাছাই করে জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ জানান, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই সুপারিশের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জন্য মোট ৮৯ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে উপজেলা মনিটরিং কমিটি ১১টি স্থানের জন্য ৩২ জনের একটি তালিকা জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিতে পাঠায়, যা পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। কিন্তু যোগ্যতা ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে স্বজনপ্রীতি ও অর্থের প্রাধান্য দেওয়ায় সাধারণ কৃষক ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।