০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নিত্যপণ্যের বাজারে ফের অস্থিরতা, বাড়ছে চালের দাম: বাড়তি চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩২ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৭ অক্টোবর ২০২৬

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের উচ্চমূল্যের মাঝেই এবার নতুন করে বেড়েছে চালের দাম। গত এক সপ্তাহে বাজারে প্রকারভেদে প্রতি কেজি চালের দাম ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জরুরি দ্রব্যের বাড়তি মূল্যে এমনিতেই দিশেহারা সাধারণ মানুষ; তার ওপর প্রধান খাদ্যশস্যের এই মূল্যবৃদ্ধিতে দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে চালের বাজারপরিস্থিতির এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র দেখা গেছে।

 

বাজারে চালের বর্তমান পরিস্থিতি;

রাজধানীর মিরপুর-১, মিরপুর-১১, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, ইব্রাহিমপুর ও কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়— গত দু-এক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ১ থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

 

মিরপুর-১১ বাজারের ‘মকবুল রাইস এজেন্সি’র মালিক কামাল হোসেন জানান, নাজিরশাইল ছাড়া বর্তমানে প্রায় সব ধরনের চালের দামই ঊর্ধ্বমুখী। চালের বাজার দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকলেও সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

 

তিনি আরও জানান, বছরের এই সময়টিতে সাধারণত চালের দাম কিছুটা বাড়ে। কারণ, বর্তমানে চালকল ও গুদামগুলোতে থাকা চাল পুরোনো হয়ে এসেছে এবং নতুন চাল বাজারে আসতে আরও অন্তত দুই মাস সময় লাগবে।

 

অন্যদিকে, কারওয়ান বাজারের ‘জনতা রাইস এজেন্সি’র ব্যবস্থাপক সোহরাব হোসেন বলেন, দেশে বর্তমানে চালের কোনো ঘাটতি নেই। তবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

 

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ;

চালের এই সামান্য মূল্যবৃদ্ধি শুনতে কম মনে হলেও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর তা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

 

ক্ষুদ্র খাদ্য সরবরাহকারীদের সংকট: তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা মমতাজ বেগম প্রায় ৩০ জন দিনমজুরের জন্য দুপুর ও রাতের খাবার তৈরি করে সরবরাহ করেন। দুই বেলার খাবারের জন্য তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা নেন। তিনি জানান, চালের দাম কেজিতে মাত্র ১ টাকা বাড়লেও প্রতি মাসে তার খরচ বেড়ে যায় অন্তত ৩৬০ টাকা। এলপিজি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার আয় কমে ঋণ বেড়েছে। মমতাজ বেগম বলেন, “খাবারের দাম বাড়ালে গ্রাহক চলে যাওয়ার ভয় থাকে। আবার চালের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে ব্যবসা চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

 

নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপোড়েন: হাতিরপুলের বাসিন্দা ও বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী জাহিদুর রহমান (৫৫) জানান, ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাসে অন্তত ৬৫ কেজি চাল লাগে তার পরিবারে। ফলে চালের দাম কেজিতে ১ টাকা বাড়লেও মাসে অতিরিক্ত ৬৫ টাকা গুনতে হয় তাকে। খরচ বাঁচাতে তিনি ১০০ টাকা সাশ্রয়ের আশায় কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে যান। তার ভাষায়, “বাজারে যে টাকা নিয়ে যাই, তা দিয়ে প্রয়োজনীয় সব কেনা যায় না। তালিকা থেকে কিছু পণ্য বাদ দিতে হয়, নয়তো কম করে কিনতে হয়।”

 

এছাড়া বাজার করতে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, সম্প্রতি চালের পাশাপাশি প্যাকেটজাত ও তরল দুধের দাম বাড়ায় সংসার চালাতে চরম আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।

 

সার্বিক চিত্র;

ভোক্তাদের মতে, চালের এই দাম বৃদ্ধি খুব বড় অঙ্কের মনে না হলেও এটি ভবিষ্যৎ বাজার অস্থিরতার একটি পূর্বাভাস হতে পারে। নতুন চাল বাজারে না আসা পর্যন্ত চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পরিবহন খরচের অজুহাতে সুযোগসন্ধানী মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

নিত্যপণ্যের বাজারে ফের অস্থিরতা, বাড়ছে চালের দাম: বাড়তি চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

আপডেট সময়ঃ ০৩:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৭ অক্টোবর ২০২৬

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের উচ্চমূল্যের মাঝেই এবার নতুন করে বেড়েছে চালের দাম। গত এক সপ্তাহে বাজারে প্রকারভেদে প্রতি কেজি চালের দাম ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জরুরি দ্রব্যের বাড়তি মূল্যে এমনিতেই দিশেহারা সাধারণ মানুষ; তার ওপর প্রধান খাদ্যশস্যের এই মূল্যবৃদ্ধিতে দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে চালের বাজারপরিস্থিতির এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র দেখা গেছে।

 

বাজারে চালের বর্তমান পরিস্থিতি;

রাজধানীর মিরপুর-১, মিরপুর-১১, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, ইব্রাহিমপুর ও কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়— গত দু-এক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ১ থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

 

মিরপুর-১১ বাজারের ‘মকবুল রাইস এজেন্সি’র মালিক কামাল হোসেন জানান, নাজিরশাইল ছাড়া বর্তমানে প্রায় সব ধরনের চালের দামই ঊর্ধ্বমুখী। চালের বাজার দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকলেও সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

 

তিনি আরও জানান, বছরের এই সময়টিতে সাধারণত চালের দাম কিছুটা বাড়ে। কারণ, বর্তমানে চালকল ও গুদামগুলোতে থাকা চাল পুরোনো হয়ে এসেছে এবং নতুন চাল বাজারে আসতে আরও অন্তত দুই মাস সময় লাগবে।

 

অন্যদিকে, কারওয়ান বাজারের ‘জনতা রাইস এজেন্সি’র ব্যবস্থাপক সোহরাব হোসেন বলেন, দেশে বর্তমানে চালের কোনো ঘাটতি নেই। তবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

 

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ;

চালের এই সামান্য মূল্যবৃদ্ধি শুনতে কম মনে হলেও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর তা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

 

ক্ষুদ্র খাদ্য সরবরাহকারীদের সংকট: তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা মমতাজ বেগম প্রায় ৩০ জন দিনমজুরের জন্য দুপুর ও রাতের খাবার তৈরি করে সরবরাহ করেন। দুই বেলার খাবারের জন্য তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা নেন। তিনি জানান, চালের দাম কেজিতে মাত্র ১ টাকা বাড়লেও প্রতি মাসে তার খরচ বেড়ে যায় অন্তত ৩৬০ টাকা। এলপিজি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার আয় কমে ঋণ বেড়েছে। মমতাজ বেগম বলেন, “খাবারের দাম বাড়ালে গ্রাহক চলে যাওয়ার ভয় থাকে। আবার চালের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে ব্যবসা চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

 

নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপোড়েন: হাতিরপুলের বাসিন্দা ও বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী জাহিদুর রহমান (৫৫) জানান, ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাসে অন্তত ৬৫ কেজি চাল লাগে তার পরিবারে। ফলে চালের দাম কেজিতে ১ টাকা বাড়লেও মাসে অতিরিক্ত ৬৫ টাকা গুনতে হয় তাকে। খরচ বাঁচাতে তিনি ১০০ টাকা সাশ্রয়ের আশায় কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে যান। তার ভাষায়, “বাজারে যে টাকা নিয়ে যাই, তা দিয়ে প্রয়োজনীয় সব কেনা যায় না। তালিকা থেকে কিছু পণ্য বাদ দিতে হয়, নয়তো কম করে কিনতে হয়।”

 

এছাড়া বাজার করতে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, সম্প্রতি চালের পাশাপাশি প্যাকেটজাত ও তরল দুধের দাম বাড়ায় সংসার চালাতে চরম আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।

 

সার্বিক চিত্র;

ভোক্তাদের মতে, চালের এই দাম বৃদ্ধি খুব বড় অঙ্কের মনে না হলেও এটি ভবিষ্যৎ বাজার অস্থিরতার একটি পূর্বাভাস হতে পারে। নতুন চাল বাজারে না আসা পর্যন্ত চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পরিবহন খরচের অজুহাতে সুযোগসন্ধানী মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।