অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে অভিযান, মাদক ও নারী ঘিরে আলোচনায় ৮৪ জন আটক
- আপডেট সময়ঃ ০১:৩০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ২১ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার পুলিশ হাউজিং-১-এ পুলিশ সদর দপ্তরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে আয়োজিত অবৈধ ডিজে পার্টি ও মাদকের আসরে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দিবাগত রাতে ডিবি উত্তরের একটি দল আড়াই তলার ওই থ্রিপ্লেক্স বাসায় গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এক আফগান নাগরিকসহ ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ—মোট ৮৪ জনকে আটক করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটির মালিক পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-২) আব্দুল্লাহ আল জহির। তিনি আন্তর্জাতিক অনলাইন বুকিং প্ল্যাটফর্ম ‘এয়ারবিএনবি’ (Airbnb)-র মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন।
অভিযানের নেপথ্য ও জব্দকৃত আলামত;
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং নেওয়া ওই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় প্রতি রাতেই অবৈধ মদ ও মাদকের উপচে পড়া আয়োজনে ডিজে পার্টির আসর বসছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ, গাঁজা, ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের নানা সরঞ্জামাদিসহ অনৈতিক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এয়ারবিএনবি-র মাধ্যমে বাসাটি অতিথিদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অবৈধ ডিজে পার্টি পরিচালনা ও মাদকসেবনের অপরাধে ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে এবং প্রচুর পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ডিআইজির সম্পৃক্ততা;
গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাসাটির একটি অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রেখে হোস্ট ও কো-হোস্টের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। ঘটনার পর পর বাসাটির কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে আটক করেছে ডিবি।
প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসাটি বুকিং দেওয়া হলেও সেখান থেকে প্রাপ্ত মোট আয়ের ৭০ শতাংশ সরাসরি অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের কাছে চলে যেত।
ডিবি পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কো-হোস্ট মাহবুবুল আলম আটক হওয়ার পর তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য প্রভাব খাটিয়ে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে ওই অতিরিক্ত ডিআইজির বিরুদ্ধে।
আইনি ব্যবস্থা;
অভিযোগ ও সার্বিক ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের
চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ডিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




















