০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম জে এম সেন হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান: আ’লীগ নেতার সঞ্চালনা নিয়ে বিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:১১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২১অক্টোবর ২০২৬

 

চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ। সেখানে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাতেও দেখা যায়। তবে নিখিল নাথ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের একজন সক্রিয় সদস্য হওয়ায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এ ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বলয়ের অংশ ছিলেন। দলীয় প্রভাব ও তৎকালীন মন্ত্রী হাছান মাহমুদের ডিও লেটারের সুবাদে তিনি ২০২১ সালে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনীত হন। এছাড়া আওয়ামী শাসনামলে তিনি চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি উত্তর জেলা ছাত্রলীগ, আইন কলেজ ছাত্রলীগ এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

 

স্থান পেয়েছে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন;

প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে উপস্থিতির সময় বিগত সরকারের সুবিধাভোগী একজন শীর্ষস্থানীয় আ’লীগ নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অত কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে চাটগাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।

 

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক মাসুদ উল হক চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “প্রধানমন্ত্রীর পাশে এত বড় রাজনৈতিক পরিচয়ের একজন ব্যক্তি কীভাবে সঞ্চালনার সুযোগ পেলেন?” তিনি বিষয়টিকে সিকিউরিটি বা নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান এবং রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

নিখিল নাথ ও প্রশাসনের বক্তব্য;

বিতর্কের জবাবে অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ নিজের দলীয় পরিচয় স্বীকার করে বলেন:

“আমি সনাতন ধর্মের এবং পূজা উদযাপন পরিষদের দায়িত্বশীল পদে থাকার সুবাদেই সেখানে সঞ্চালনা করেছি। আমি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও কখনো কারো কোনো ক্ষতি করিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সবার অভিভাবক হিসেবে এসেছিলেন। আর এলাকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও আমার সুসম্পর্ক রয়েছে।”

 

এদিকে এই বিতর্কিত বিষয়ের সুর তাল মেলাতে এবং আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৈঠকে ব্যস্ত আছেন জানিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

চট্টগ্রাম জে এম সেন হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান: আ’লীগ নেতার সঞ্চালনা নিয়ে বিতর্ক

আপডেট সময়ঃ ০৮:১১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২১অক্টোবর ২০২৬

 

চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ। সেখানে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাতেও দেখা যায়। তবে নিখিল নাথ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের একজন সক্রিয় সদস্য হওয়ায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এ ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বলয়ের অংশ ছিলেন। দলীয় প্রভাব ও তৎকালীন মন্ত্রী হাছান মাহমুদের ডিও লেটারের সুবাদে তিনি ২০২১ সালে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনীত হন। এছাড়া আওয়ামী শাসনামলে তিনি চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি উত্তর জেলা ছাত্রলীগ, আইন কলেজ ছাত্রলীগ এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

 

স্থান পেয়েছে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন;

প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে উপস্থিতির সময় বিগত সরকারের সুবিধাভোগী একজন শীর্ষস্থানীয় আ’লীগ নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অত কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে চাটগাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।

 

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক মাসুদ উল হক চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “প্রধানমন্ত্রীর পাশে এত বড় রাজনৈতিক পরিচয়ের একজন ব্যক্তি কীভাবে সঞ্চালনার সুযোগ পেলেন?” তিনি বিষয়টিকে সিকিউরিটি বা নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান এবং রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

নিখিল নাথ ও প্রশাসনের বক্তব্য;

বিতর্কের জবাবে অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ নিজের দলীয় পরিচয় স্বীকার করে বলেন:

“আমি সনাতন ধর্মের এবং পূজা উদযাপন পরিষদের দায়িত্বশীল পদে থাকার সুবাদেই সেখানে সঞ্চালনা করেছি। আমি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও কখনো কারো কোনো ক্ষতি করিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সবার অভিভাবক হিসেবে এসেছিলেন। আর এলাকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও আমার সুসম্পর্ক রয়েছে।”

 

এদিকে এই বিতর্কিত বিষয়ের সুর তাল মেলাতে এবং আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৈঠকে ব্যস্ত আছেন জানিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।