ফেসবুক মন্তব্য নিয়ে বাকবিতণ্ডা: তাহিরপুরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০
- আপডেট সময়ঃ ১১:০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ২২ অক্টোবর ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট এবং পাল্টা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মাটিয়ান গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) কাঁচা মিয়ার সমর্থকেরা। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিরোধের নেপথ্য কারণ;
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে নারীঘটিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে কাঁচা মিয়ার সমর্থক মনসুর মিয়ার ছেলে ইমন আহমেদ (২৩)-এর সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের লোকজনের বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তী সময়ে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিরোধটির নিষ্পত্তি করা হয়েছিল।
তবে সালিশ হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে অন্তর্নিহিত উত্তেজনা থেকেই যায়। সম্প্রতি ইমন আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে নুরুল ইসলামের সমর্থকদের সঙ্গে কমেন্ট ও পাল্টা কমেন্টে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একাধিক ব্যর্থ মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা;
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিষদের সদস্যরা উভয় পক্ষকে নিয়ে পুনরায় বৈঠকে বসেন এবং বিরোধ সমাধানের উদ্যোগ নেন। কিন্তু মধ্যস্থতা সত্ত্বেও ওই দিন রাতেই ফের দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখুঞ্জি বলেন, “গতকালও সালিশের মাধ্যমে বিরোধটি মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আবার বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। রাতে ও বুধবার সকালে আমি উভয় পক্ষকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা তা শোনেনি। অবশেষে দুপুরে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।”
সংঘর্ষ ও হতাহত;
বুধবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে থাকে। পরে দুপুরের দিকে মাটিয়ান গ্রামে উভয় পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
সংঘর্ষের পর আহতদের দ্রুত তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহতদের মধ্যে নুরুল ইসলামের পক্ষের রিফাত মিয়া (২০) এবং কাঁচা মিয়ার পক্ষের শাহীনুর মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি;
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা দায়িত্বে পুলিশ সদস্যরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সামান্য বিরোধ কীভাবে গ্রাম্য সংঘাত ও রক্তক্ষয়ে রূপ নিতে পারে, তারই এক উদ্বেগজনক উদাহরণ হয়ে রইল এই ঘটনা। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।




















