০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

‘মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউএনও’—ফেসবুক পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য, হাসপাতালে এসিল্যান্ড

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:১৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদককে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে দেওয়া এই পোস্ট ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

 

স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস আগে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরেই বসবাস করতেন।

 

 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক জানান, শুক্রবার রাতে তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের সরকারি বাসভবনে কেক কাটায় অংশ নেন। তবে অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার পরপরই আরিফুর রহমান ফেসবুকে দুটি পৃথক স্ট্যাটাস দেন।

 

একটি পোস্টে তিনি লেখেন— ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এবং অপর পোস্টে লেখেন— ‘আই রিজাইন ফ্রম এডমিন ক্যাডার’ (আমি প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগ করলাম)।

 

 

পোস্টগুলো ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত এসিল্যান্ডের বাসায় যান। ইউএনওর ভাষ্যমতে, সেখানে গিয়ে তাঁকে কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসকও সেখানে যান। ওষুধ সেবনের পরও তাঁর আচরণের উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁকে প্রথমে সিলেট এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।

 

এদিকে, ইউএনও শিল্পী রানী মোদক দাবি করেছেন, এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ওই রাতে তিনি এক আনসার সদস্যকে মারধর করেছেন, রাস্তায় লোকজনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং এমনকি ইউএনওর তিন বছর বয়সী মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন।

 

নিজের নাম উল্লেখ করে কেন এসিল্যান্ড এমন চাঞ্চল্যকর পোস্ট দিয়েছেন—এ বিষয়ে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও বিস্মৃত ও অত্যন্ত বিভ্রান্ত। কেন তিনি এমন করলেন তা বুঝতে পারছি না।”

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিয়া জানান, ফেসবুকে পোস্ট দেখার পরপরই তাঁরা এসিল্যান্ডের বাসায় যান। পরে তাঁর স্ত্রীর পরামর্শে তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। শারীরিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত আনুমানিক ১টার দিকে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‘মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউএনও’—ফেসবুক পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য, হাসপাতালে এসিল্যান্ড

আপডেট সময়ঃ ০৮:১৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদককে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে দেওয়া এই পোস্ট ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

 

স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস আগে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরেই বসবাস করতেন।

 

 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক জানান, শুক্রবার রাতে তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের সরকারি বাসভবনে কেক কাটায় অংশ নেন। তবে অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার পরপরই আরিফুর রহমান ফেসবুকে দুটি পৃথক স্ট্যাটাস দেন।

 

একটি পোস্টে তিনি লেখেন— ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এবং অপর পোস্টে লেখেন— ‘আই রিজাইন ফ্রম এডমিন ক্যাডার’ (আমি প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগ করলাম)।

 

 

পোস্টগুলো ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত এসিল্যান্ডের বাসায় যান। ইউএনওর ভাষ্যমতে, সেখানে গিয়ে তাঁকে কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসকও সেখানে যান। ওষুধ সেবনের পরও তাঁর আচরণের উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁকে প্রথমে সিলেট এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।

 

এদিকে, ইউএনও শিল্পী রানী মোদক দাবি করেছেন, এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ওই রাতে তিনি এক আনসার সদস্যকে মারধর করেছেন, রাস্তায় লোকজনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং এমনকি ইউএনওর তিন বছর বয়সী মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন।

 

নিজের নাম উল্লেখ করে কেন এসিল্যান্ড এমন চাঞ্চল্যকর পোস্ট দিয়েছেন—এ বিষয়ে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও বিস্মৃত ও অত্যন্ত বিভ্রান্ত। কেন তিনি এমন করলেন তা বুঝতে পারছি না।”

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিয়া জানান, ফেসবুকে পোস্ট দেখার পরপরই তাঁরা এসিল্যান্ডের বাসায় যান। পরে তাঁর স্ত্রীর পরামর্শে তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। শারীরিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত আনুমানিক ১টার দিকে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।