বন্দিশালার সেই ৯ মাসঃ
খালেদা জিয়াকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ ও তারেক রহমানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৩৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দীর্ঘ ৯ মাস বন্দি থাকা এবং সেই সময়ে প্রদর্শিত অসীম সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে।
একইসাথে তৎকালীন সময়ে মায়ের সাথে বন্দি জীবন কাটানো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে সম্মাননা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই দাবি উত্থাপন করেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। সংসদীয় অধিবেশনে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে দীর্ঘ নয়টি মাস বন্দি ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। চরম অনিশ্চয়তা আর প্রাণনাশের হুমকির মুখেও তিনি যে অসীম ধৈর্য ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছিলেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
তিনি কেবল একজন গৃহবধূ হিসেবে নয়, বরং একজন বন্দি হিসেবেও যুদ্ধের সেই কঠিন দিনগুলোতে স্বাধীনতার স্পৃহাকে লালন করেছিলেন।
সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর প্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোর শৈশবের সেই যন্ত্রণাকাতর দিনগুলোর ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, যখন একটি শিশুর খেলার মাঠে থাকার কথা, তখন তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে কাটাতে হয়েছে অন্ধকার বন্দিশালায়।
মায়ের সাথে সেই অবর্ণনীয় কষ্ট ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এই দুই ভাইকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
“এটি কোনো রাজনৈতিক চাটুকারিতা নয়, বরং ইতিহাসের এক অমোঘ সত্য। ৯ মাস পাকিস্তানি ডেরায় বন্দি থাকা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এই ত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্যায়ন হওয়া জরুরি।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সরকারের কাছে জোরালো আবেদন জানান যেন, রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ইতিহাসের সঠিক পাঠ নিশ্চিত করা হয়। তিনি মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা জাতীয় ঐক্য ও ইতিহাসের দায়বদ্ধতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যদের বন্দি থাকার বিষয়টি বরাবরই সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এই প্রস্তাবের পর এখন দেখার বিষয় সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই দাবির প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
তথ্যসহায়তাঃকালেরকন্ঠ











