চরমপন্থিরা দিল্লির নিরাপদ কূটনৈতিক এলাকায় ঢুকতে পারবে কেন? পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রশ্ন
- আপডেট সময়ঃ ০৮:১৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৪৩ বার পড়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ মিশনের দিল্লিতে কূটনৈতিক এলাকার ভিতরে অবস্থান খুবই নিরাপদ স্থানে, সেখানে হিন্দু চরমপন্থিরা ওই স্যানিটাইজ এলাকার মধ্যে আসতে পারবে কেন?
তাহলে তাদের আসতে দেয়া হয়েছে- এমন ঘটনা প্রত্যাশিত নয়। রোববার বিকেলে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত গতকাল শনিবার রাতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনার ব্যানারে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে এসে বিক্ষোভ করেছে।
ওইদিন রাতে তারা প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত ব্যানার নিয়ে বাংলাদেশ হাউজের সামনে অবস্থান করে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। এসময় ২০ থেকে ২৫ জনের ওই বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকিও দেয়।
তৌহিদ হোসেন বলেন, তারা বলছে ২০-২৫ জনের দল। হিন্দু চরমপন্থি ২৫ বা ৩০ জনের একটা দল এত দূর পর্যন্ত আসতে পারবে কেন এমন একটা সেনিটাইজ এলাকার মধ্যে? তাদেরকে আসতে দেওয়া হয়েছে তাহলে! নরমালি তাদের আসতে পারার কথা নয়। তারপর তারা হিন্দু নাগরিকের হত্যার প্রতিবাদে সেøাগান দিয়ে চলে গেছে তা কিন্তু নয়। আরো অনেক কিছু বলেছে সেটা আমরা জানি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমার কাছে প্রমাণ নেই, কিন্তু আমরা শুনেছি যে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। সেখানে এসে তাকে হুমকি দেবে কেন? উপদেষ্টা বলেন ওখানে হাইকমিশনারের পরিবারসহ বসবাস করেন। তারা ঝুঁকি বোধ করছে এবং থ্রেটেন ফিল করছে।
তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। দিল্লির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাংলাদেশের হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই উভয় দেশের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ভারতের সরকারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং তারা আশা করছে যে, ভারতের সরকার এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে, বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা আশা করছেন যে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষকেই সচেষ্ট থাকতে হবে।
তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন











