০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রাণ বাঁচাতে জলাশয়ে ঝাঁপ

‎পাগলা বাজারে যুবককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টাঃ আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে ভর্তি

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • / ১১ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এক যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার এলাকায় সংঘবদ্ধ একদল দুর্বৃত্ত শোভন দেব (৩২) নামের ওই যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে। 

বর্তমানে তিনি সিলেট এম.এ.জি উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

‎ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার রাত ১১টার দিকে পাগলা বাজার সংলগ্ন শ্মশানের কাছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শোভন দেব যখন শ্মশানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো ছুরি ও চাপাতি দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করতে থাকে।

 

‎সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শোভনের হাত, ঠোঁট ও গালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে শোভন নিরুপায় হয়ে পাশের একটি জলাশয়ে (ডোবা/মাঠ সংলগ্ন নিচু জমি) ঝাঁপ দেন।

হামলাকারীরা চলে গেলে তিনি কোনোমতে পানি থেকে উঠে সজাগ থাকার চেষ্টা করেন এবং পাগলা বাজারের দেববাড়ি মোড়ে নিজের দোকানের সামনে গিয়ে লুটিয়ে পড়েন।

 

‎হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আহত শোভন দেব এই নৃশংস হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার ছেলে মামুন মিয়ার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় মামুনকে সরাসরি সহায়তা করেছেন একই গ্রামের হবি মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক রুকন মিয়া এবং নাজিম উদ্দিনের ছেলে রিহান। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন এই সংঘবদ্ধ হামলায় অংশ নেয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

‎বাজারে রক্তাক্ত অবস্থায় শোভনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত তার পরিবারকে খবর দেন।

স্বজনরা তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পূর্ব শত্রুতার জেরে এমন ভয়াবহ হামলা চালানো হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

‎এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলিউল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শান্তিগঞ্জের সচেতন মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রাণ বাঁচাতে জলাশয়ে ঝাঁপ

‎পাগলা বাজারে যুবককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টাঃ আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে ভর্তি

আপডেট সময়ঃ ০৯:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এক যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার এলাকায় সংঘবদ্ধ একদল দুর্বৃত্ত শোভন দেব (৩২) নামের ওই যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে। 

বর্তমানে তিনি সিলেট এম.এ.জি উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

‎ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার রাত ১১টার দিকে পাগলা বাজার সংলগ্ন শ্মশানের কাছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শোভন দেব যখন শ্মশানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো ছুরি ও চাপাতি দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করতে থাকে।

 

‎সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শোভনের হাত, ঠোঁট ও গালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে শোভন নিরুপায় হয়ে পাশের একটি জলাশয়ে (ডোবা/মাঠ সংলগ্ন নিচু জমি) ঝাঁপ দেন।

হামলাকারীরা চলে গেলে তিনি কোনোমতে পানি থেকে উঠে সজাগ থাকার চেষ্টা করেন এবং পাগলা বাজারের দেববাড়ি মোড়ে নিজের দোকানের সামনে গিয়ে লুটিয়ে পড়েন।

 

‎হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আহত শোভন দেব এই নৃশংস হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার ছেলে মামুন মিয়ার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় মামুনকে সরাসরি সহায়তা করেছেন একই গ্রামের হবি মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক রুকন মিয়া এবং নাজিম উদ্দিনের ছেলে রিহান। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন এই সংঘবদ্ধ হামলায় অংশ নেয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

‎বাজারে রক্তাক্ত অবস্থায় শোভনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত তার পরিবারকে খবর দেন।

স্বজনরা তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পূর্ব শত্রুতার জেরে এমন ভয়াবহ হামলা চালানো হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

‎এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলিউল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শান্তিগঞ্জের সচেতন মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।