১০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

ভাতগাও ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হো‌সেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপা‌টের অভিযোগ- ইউপি সদস্যদের অনাস্থা

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৪২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৩৩ বার পড়া হয়েছে।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক  বরাব‌রে ইউপি চেয়ারম‌্যান আওলাদ হো‌সেনসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত ক‌রে ইউনিয়ন পরিষদের ৯ সদস্য ও ৩ ম‌হিলা সদস্যের সীল সাক্ষরীত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের ক‌রা হয়। পাশাপাশি গতকাল রবিবার ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরও অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছ‌রের ব্যবধানে শূন্য থেকে কোটিপতি হ‌য়ে‌ছেন ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন। তিনি উপজেলার ভাতগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের পুত্র। আওয়ামী লীগ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বেসরকা‌রি উচ্চ বিদ‌্যাল‌য়ে সহকা‌রি শিক্ষক থেকে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ১৯ মার্চ রাতে থানা পুলিশের ডেভিল হান্ট অভিযানে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে জামিনে বের হয়েছেন, ছাতক উপজেলার কৃষক লীগের আহ্বায়ক ও ভাতগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে ভাতগাঁও ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওলাদ হোসেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনিতিতে যোগ দেন।এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর সাবেক এমপির আস্থাভাজন হিসেবেও এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন তিনি।

 

এরপর ২০১৬ সাল থেকে উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন, আওলাদ হোসেন। এর আগে কখনো তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দেখেননি এলাকার মানুষ।

 

অভিযোগ উটেছে আওলাদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শুন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন। অবৈধ ভাবে উপার্জিত টাকার সিংহভাগই লন্ডনে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে গুঞ্জন উটেছে।

উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, তার গ্রামের বাড়িতে ভাতগাঁও মৌজায় প্রায় ৩০ একর জমি কিনেছেন। সিলেটের আখলিয়া এলাকায় “আব্দুল মান্নান ভিলা” তার বাবার নামে আলিশান বাসা রয়েছে: যা তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তার ছেলেকে ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছেন।

সা‌বেক উপ‌জেলার দুর্নীতিবাজ পিআইও মাহবুর রহমান, সা‌বেক ইউপি স‌চিব জী‌তেন দাস ও তার প্রধান সহ‌যোগী যুবলী‌গ নেতা শি‌ব্বির আহমদ ভুয়া বিল উঠনোর অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে চেয়ারম্যান সহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়ে‌ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউপি সদস্যরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় আওয়ামী লীগ সরকা‌রের পতন ঘ‌ট‌লেও ভাতগাও ইউপি চেয়ারম‌্যান আওলাদ হো‌সেন একক ক্ষমতা বলে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থ বছ‌রের সরকা‌রি বি‌ভিন্ন প্রক‌ল্পের তথ‌্য গোপন ক‌রে পরিষদের সদস্যদের মধ্যে স‌ঠিক বন্টন না ক‌রে ২০ লাখ টাকার প্রক‌ল্প হা‌তি‌য়ে নিয়েছেন। যে কারণে পরিষদ সদস্য ও ম‌হিলা সদস্যদের ম‌ধ্যে বি‌রোধ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন-এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি, আমার উপর আনিত অভিযোগ অসত্য এবং মিথ্যা।

এব‌্যাপা‌রে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মো: ইলিয়াস মিয়া’র সরকারি ব্যবহৃত নাম্বার বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ভাতগাও ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হো‌সেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপা‌টের অভিযোগ- ইউপি সদস্যদের অনাস্থা

আপডেট সময়ঃ ০৬:৪২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক  বরাব‌রে ইউপি চেয়ারম‌্যান আওলাদ হো‌সেনসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত ক‌রে ইউনিয়ন পরিষদের ৯ সদস্য ও ৩ ম‌হিলা সদস্যের সীল সাক্ষরীত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের ক‌রা হয়। পাশাপাশি গতকাল রবিবার ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরও অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছ‌রের ব্যবধানে শূন্য থেকে কোটিপতি হ‌য়ে‌ছেন ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন। তিনি উপজেলার ভাতগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের পুত্র। আওয়ামী লীগ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বেসরকা‌রি উচ্চ বিদ‌্যাল‌য়ে সহকা‌রি শিক্ষক থেকে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ১৯ মার্চ রাতে থানা পুলিশের ডেভিল হান্ট অভিযানে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে জামিনে বের হয়েছেন, ছাতক উপজেলার কৃষক লীগের আহ্বায়ক ও ভাতগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে ভাতগাঁও ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওলাদ হোসেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনিতিতে যোগ দেন।এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর সাবেক এমপির আস্থাভাজন হিসেবেও এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন তিনি।

 

এরপর ২০১৬ সাল থেকে উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন, আওলাদ হোসেন। এর আগে কখনো তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দেখেননি এলাকার মানুষ।

 

অভিযোগ উটেছে আওলাদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শুন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন। অবৈধ ভাবে উপার্জিত টাকার সিংহভাগই লন্ডনে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে গুঞ্জন উটেছে।

উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, তার গ্রামের বাড়িতে ভাতগাঁও মৌজায় প্রায় ৩০ একর জমি কিনেছেন। সিলেটের আখলিয়া এলাকায় “আব্দুল মান্নান ভিলা” তার বাবার নামে আলিশান বাসা রয়েছে: যা তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তার ছেলেকে ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছেন।

সা‌বেক উপ‌জেলার দুর্নীতিবাজ পিআইও মাহবুর রহমান, সা‌বেক ইউপি স‌চিব জী‌তেন দাস ও তার প্রধান সহ‌যোগী যুবলী‌গ নেতা শি‌ব্বির আহমদ ভুয়া বিল উঠনোর অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে চেয়ারম্যান সহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়ে‌ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউপি সদস্যরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় আওয়ামী লীগ সরকা‌রের পতন ঘ‌ট‌লেও ভাতগাও ইউপি চেয়ারম‌্যান আওলাদ হো‌সেন একক ক্ষমতা বলে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থ বছ‌রের সরকা‌রি বি‌ভিন্ন প্রক‌ল্পের তথ‌্য গোপন ক‌রে পরিষদের সদস্যদের মধ্যে স‌ঠিক বন্টন না ক‌রে ২০ লাখ টাকার প্রক‌ল্প হা‌তি‌য়ে নিয়েছেন। যে কারণে পরিষদ সদস্য ও ম‌হিলা সদস্যদের ম‌ধ্যে বি‌রোধ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন-এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি, আমার উপর আনিত অভিযোগ অসত্য এবং মিথ্যা।

এব‌্যাপা‌রে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মো: ইলিয়াস মিয়া’র সরকারি ব্যবহৃত নাম্বার বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।