১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিথ্যা ইতিহাস রচনা করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করা হয়নি: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৪৫ বার পড়া হয়েছে।

‎স্বাধীনতার পর সোনার বাংলার কথা বলে দেশকে শ্মশানে পরিণত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক মিথ্যা ইতিহাস রচনা করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

 

মঙ্গলবার বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত যুব ম্যারাথনের পূর্ববর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

‎জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে হাতে তসবি ও মাথায় ঘোমটা দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেয়া হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ এখনও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

‎আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার পর একটি পরিবার, একটি গোষ্ঠী এবং একটি দলকে সুবিধা দিতে সব রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছিল। দলটি সোনার বাংলা গড়ার ওয়াদা করে শ্মশান বাংলা তৈরি করেছিল।

‎ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল। কিন্তু অতীতের বস্তাপচা সব রাজনীতিকে আমরা পায়ের নীচে চেপে সমাপ্তি টানতে চাই। নতুন বাংলাদেশের নতুন ধারায় রাজনীতি শুরু করতে চাই।

‎সমাবেশে তিনি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের ওপর জোর দেন। যে কোনও প্রতিরোধ মোকাবিলা করে তরুণদের হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে তারুণ্যের বিজয় প্রত্যাশা করেন জামায়াত আমির।

‎এ সময় তিনি বস্তাপচা ও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

‎জামায়াত আমির বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমরা আমাদের দলীয় বিজয় চাই না, চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনীতির নতুন মোড়ক উন্মোচন হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র থাকলে তা জনগণ প্রতিরোধ করে নিঃশেষ করে দেবে।

‎ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনও আনুকূল্য চাই না, কিন্তু কোনও দলকে যদি কমিশন আনুকূল্য দেয়ার চেষ্টা করে, তবে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

‎তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের দল সবসময় প্রস্তুত। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা দেশের ভবিষ্যৎ। আপনাদের হাত ধরেই দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। নতুন প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনা ও উদ্ভাবনী শক্তি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

‎ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়া, যেখানে সকল নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত দেশের কল্যাণে কাজ করা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

‎সমাবেশে উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা দেশের শক্তি ও সম্ভাবনা। আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও উদ্যোগই দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে যাতে তারা দেশের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত হয়।

‎ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে। আমাদের লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা যেখানে সকলের মতামত ও অংশগ্রহণ মূল্যায়িত হবে। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে, তাই তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সমর্থন প্রদান করা জরুরি।

 

‎তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

মিথ্যা ইতিহাস রচনা করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করা হয়নি: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময়ঃ ০৬:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

‎স্বাধীনতার পর সোনার বাংলার কথা বলে দেশকে শ্মশানে পরিণত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক মিথ্যা ইতিহাস রচনা করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

 

মঙ্গলবার বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত যুব ম্যারাথনের পূর্ববর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

‎জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে হাতে তসবি ও মাথায় ঘোমটা দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেয়া হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ এখনও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

‎আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার পর একটি পরিবার, একটি গোষ্ঠী এবং একটি দলকে সুবিধা দিতে সব রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছিল। দলটি সোনার বাংলা গড়ার ওয়াদা করে শ্মশান বাংলা তৈরি করেছিল।

‎ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল। কিন্তু অতীতের বস্তাপচা সব রাজনীতিকে আমরা পায়ের নীচে চেপে সমাপ্তি টানতে চাই। নতুন বাংলাদেশের নতুন ধারায় রাজনীতি শুরু করতে চাই।

‎সমাবেশে তিনি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের ওপর জোর দেন। যে কোনও প্রতিরোধ মোকাবিলা করে তরুণদের হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে তারুণ্যের বিজয় প্রত্যাশা করেন জামায়াত আমির।

‎এ সময় তিনি বস্তাপচা ও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

‎জামায়াত আমির বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমরা আমাদের দলীয় বিজয় চাই না, চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনীতির নতুন মোড়ক উন্মোচন হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র থাকলে তা জনগণ প্রতিরোধ করে নিঃশেষ করে দেবে।

‎ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনও আনুকূল্য চাই না, কিন্তু কোনও দলকে যদি কমিশন আনুকূল্য দেয়ার চেষ্টা করে, তবে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

‎তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের দল সবসময় প্রস্তুত। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা দেশের ভবিষ্যৎ। আপনাদের হাত ধরেই দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। নতুন প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনা ও উদ্ভাবনী শক্তি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

‎ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়া, যেখানে সকল নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত দেশের কল্যাণে কাজ করা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

‎সমাবেশে উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা দেশের শক্তি ও সম্ভাবনা। আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও উদ্যোগই দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে যাতে তারা দেশের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত হয়।

‎ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে। আমাদের লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা যেখানে সকলের মতামত ও অংশগ্রহণ মূল্যায়িত হবে। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে, তাই তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সমর্থন প্রদান করা জরুরি।

 

‎তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন