০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
‎স্মৃতিসৌধে স্লোগান দিয়ে ফুল প্রদানঃ

সুনামগঞ্জে ২৭ আওয়ামীপন্থী আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২ আইনজীবী

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জে মহান স্বাধীনতা দিবসের সকালে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান ও মিছিল করার অভিযোগে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা। 

আদালত চত্বরের স্মৃতিসৌধে মিছিল ও স্লোগান দিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনায় ২৭ জন আইনজীবীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান চালিয়ে দুই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের শুক্রবার জুমার নামাজের পর আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সুনামগঞ্জ পৌরসভার তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মনীষ কান্তি দে (মিন্টু) এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান (শামীম)।

তাঁরা দুজনেই বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। পুলিশি এই অভিযানের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনজীবী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার সকালে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে একদল আইনজীবী আদালত চত্বরে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান। প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে যখন অন্য কোনো সংগঠনের উপস্থিতি ছিল না, তখন ২৩ থেকে ৩০ জন আইনজীবী মিছিল নিয়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। সেখানে ফুল দেওয়ার সময় তাঁরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে থাকেন।

‎পরবর্তীতে এই মিছিল ও স্লোগান দেওয়ার ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে গত বৃহস্পতিবার রাতেই সুনামগঞ্জ কোর্টের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল হক বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৭ জন আইনজীবীর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

‎সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, স্মৃতিসৌধের মতো একটি জাতীয় সংহতির স্থানে রাজনৈতিক মিছিল ও স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে যাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, তাঁদের সবাইকে মামলার আওতায় আনা হয়েছে। আইন অনুযায়ী বাকিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

‎মামলার আসামিদের তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার নামও রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।

এ ছাড়াও শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন দোলনসহ আওয়ামীপন্থী আইনজীবী বিমান রায়, নুরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল, শুকুর আলী, হাসান মাহবুব সাদী ও পঙ্কজ তালুকদারকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

‎পুলিশি এই তৎপরতার পর আদালত পাড়ায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আইনজীবীকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎স্মৃতিসৌধে স্লোগান দিয়ে ফুল প্রদানঃ

সুনামগঞ্জে ২৭ আওয়ামীপন্থী আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২ আইনজীবী

আপডেট সময়ঃ ০২:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জে মহান স্বাধীনতা দিবসের সকালে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান ও মিছিল করার অভিযোগে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা। 

আদালত চত্বরের স্মৃতিসৌধে মিছিল ও স্লোগান দিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনায় ২৭ জন আইনজীবীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান চালিয়ে দুই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের শুক্রবার জুমার নামাজের পর আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সুনামগঞ্জ পৌরসভার তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মনীষ কান্তি দে (মিন্টু) এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান (শামীম)।

তাঁরা দুজনেই বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। পুলিশি এই অভিযানের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনজীবী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার সকালে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে একদল আইনজীবী আদালত চত্বরে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান। প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে যখন অন্য কোনো সংগঠনের উপস্থিতি ছিল না, তখন ২৩ থেকে ৩০ জন আইনজীবী মিছিল নিয়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। সেখানে ফুল দেওয়ার সময় তাঁরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে থাকেন।

‎পরবর্তীতে এই মিছিল ও স্লোগান দেওয়ার ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে গত বৃহস্পতিবার রাতেই সুনামগঞ্জ কোর্টের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল হক বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৭ জন আইনজীবীর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

‎সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, স্মৃতিসৌধের মতো একটি জাতীয় সংহতির স্থানে রাজনৈতিক মিছিল ও স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে যাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, তাঁদের সবাইকে মামলার আওতায় আনা হয়েছে। আইন অনুযায়ী বাকিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

‎মামলার আসামিদের তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার নামও রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।

এ ছাড়াও শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন দোলনসহ আওয়ামীপন্থী আইনজীবী বিমান রায়, নুরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল, শুকুর আলী, হাসান মাহবুব সাদী ও পঙ্কজ তালুকদারকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

‎পুলিশি এই তৎপরতার পর আদালত পাড়ায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আইনজীবীকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।