সুনামগঞ্জের পাঁচ আসনে ৩৯ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল-বিএনপির ৮, স্বতন্ত্র ৯ জন—বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল
- আপডেট সময়ঃ ১২:৫৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১১২ বার পড়া হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের মনোনয়ন দাখিল পর্বে ব্যাপক সরবতা লক্ষ্য করা গেছে।
মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির রয়েছেন ৮ জন, জামায়াতে ইসলামী থেকে ৫ জন, জাতীয় পার্টি থেকে ২ জন এবং খেলাফত মজলিস থেকে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ৪ জন এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ২ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে নেমেছেন।
এছাড়াও এবি পার্টি, এলডিপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম এবং সিপিবি—প্রতিটি দল থেকে একজন করে প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি। জেলায় মোট ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৫ জন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বলে জানা গেছে। এতে করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজনের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে নির্ধারিত সময়ে। এরপর প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ের পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পরিচালিত হবে। প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং তাদের দাখিলকৃত তথ্যাদি বিচার-বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এদিকে, নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করছেন এবং ভোটারদের মন জয় করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ প্রত্যেক দলই তাদের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এবং তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য।





















