০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
‘এমবিএস এখন আমার পা চাটছে’- ট্রাম্প

সৌদি যুবরাজকে নিয়ে ট্রাম্পের নজিরবিহীন বিদ্রুপঃ

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১২:১১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য যেন থামছেই না। এবার নিজের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় উপহাস করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

ওয়াশিংটন ও রিয়াদের বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সমীকরণ বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, সৌদি যুবরাজ এখন কার্যত তার ‘পা চাটছেন’। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

 

ফ্লোরিডায় সৌদি আরবের অর্থায়নে আয়োজিত ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি তার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুনরুত্থান’ এবং বিশ্বমঞ্চে দেশটির দাপুটে প্রত্যাবর্তন নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কথোপকথনের একটি অংশ জনসমক্ষে তুলে ধরেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, শুরুতে এমবিএস তাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শক্তিকে অত্যন্ত তুচ্ছজ্ঞান করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, যুবরাজ মনে করেছিলেন তিনি হবেন ক্ষয়িষ্ণু একটি দেশের সাধারণ একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাত্র। কিন্তু এখন পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এবং সৌদি নেতাকে বাধ্য হয়েই তার সঙ্গে অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করতে হচ্ছে।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের ধরণ ছিল রীতিমতো আক্রমণাত্মক এবং তাচ্ছিল্যপূর্ণ। তিনি যুবরাজকে ‘খুবই সাধারণ মানের লোক’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের মতে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কখনো কল্পনাও করেননি যে যুক্তরাষ্ট্র এভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, অত্যন্ত অশোভন এই মন্তব্যের পরপরই ট্রাম্প আবার কিছুটা সুর নরম করেন। তিনি এমবিএসকে একজন ‘বুদ্ধিমান’ এবং ‘অমায়িক’ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নাটকীয় উন্নতি দেখে যুবরাজ নিজেই মুগ্ধ হয়ে তাকে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আগে একটি মৃত দেশ থাকলেও এখন তা বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেশে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প বেশ রসিকতা করেই যোগ করেন যে, এই সব প্রশংসাসূচক কথাবার্তা ইরানকে ‘আচ্ছামতো পিটানোর’ আগের ঘটনা।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ যখন দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করেছে, ঠিক এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রের নেতাকে নিয়ে ট্রাম্পের এই অবমাননাকর মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দাবি করছে যে, সৌদি আরব জনসমক্ষে শান্তির কথা বললেও পর্দার আড়ালে যুদ্ধের পালে হাওয়া দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন। তিনি এই সংঘাতকে ইরানকে চিরতরে দুর্বল করার একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন এবং ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আরও বিধ্বংসী হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছেন।

 

যদিও সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে এসব দাবি অস্বীকার করে আসছে। রিয়াদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে, তারা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের একটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধান চায়। তারা কেবল ইরানের পক্ষ থেকে আসা হুমকি থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করেছে। তবে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য উপহাস সত্ত্বেও পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্রতা এখনো অটুট রয়েছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ভাষা ব্যবহার রিয়াদের জন্য চূড়ান্ত বিব্রতকর হলেও, ইরান ইস্যুতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ আপাতত তাদের এই অস্বস্তিকর সম্পর্কে টিকিয়ে রাখছে।

 

 

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃবিডিনিউজ২৪

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‘এমবিএস এখন আমার পা চাটছে’- ট্রাম্প

সৌদি যুবরাজকে নিয়ে ট্রাম্পের নজিরবিহীন বিদ্রুপঃ

আপডেট সময়ঃ ১২:১১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য যেন থামছেই না। এবার নিজের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় উপহাস করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

ওয়াশিংটন ও রিয়াদের বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সমীকরণ বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, সৌদি যুবরাজ এখন কার্যত তার ‘পা চাটছেন’। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

 

ফ্লোরিডায় সৌদি আরবের অর্থায়নে আয়োজিত ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি তার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুনরুত্থান’ এবং বিশ্বমঞ্চে দেশটির দাপুটে প্রত্যাবর্তন নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কথোপকথনের একটি অংশ জনসমক্ষে তুলে ধরেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, শুরুতে এমবিএস তাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শক্তিকে অত্যন্ত তুচ্ছজ্ঞান করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, যুবরাজ মনে করেছিলেন তিনি হবেন ক্ষয়িষ্ণু একটি দেশের সাধারণ একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাত্র। কিন্তু এখন পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এবং সৌদি নেতাকে বাধ্য হয়েই তার সঙ্গে অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করতে হচ্ছে।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের ধরণ ছিল রীতিমতো আক্রমণাত্মক এবং তাচ্ছিল্যপূর্ণ। তিনি যুবরাজকে ‘খুবই সাধারণ মানের লোক’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের মতে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কখনো কল্পনাও করেননি যে যুক্তরাষ্ট্র এভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, অত্যন্ত অশোভন এই মন্তব্যের পরপরই ট্রাম্প আবার কিছুটা সুর নরম করেন। তিনি এমবিএসকে একজন ‘বুদ্ধিমান’ এবং ‘অমায়িক’ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নাটকীয় উন্নতি দেখে যুবরাজ নিজেই মুগ্ধ হয়ে তাকে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আগে একটি মৃত দেশ থাকলেও এখন তা বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেশে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প বেশ রসিকতা করেই যোগ করেন যে, এই সব প্রশংসাসূচক কথাবার্তা ইরানকে ‘আচ্ছামতো পিটানোর’ আগের ঘটনা।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ যখন দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করেছে, ঠিক এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রের নেতাকে নিয়ে ট্রাম্পের এই অবমাননাকর মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দাবি করছে যে, সৌদি আরব জনসমক্ষে শান্তির কথা বললেও পর্দার আড়ালে যুদ্ধের পালে হাওয়া দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন। তিনি এই সংঘাতকে ইরানকে চিরতরে দুর্বল করার একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন এবং ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আরও বিধ্বংসী হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছেন।

 

যদিও সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে এসব দাবি অস্বীকার করে আসছে। রিয়াদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে, তারা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের একটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধান চায়। তারা কেবল ইরানের পক্ষ থেকে আসা হুমকি থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করেছে। তবে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য উপহাস সত্ত্বেও পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্রতা এখনো অটুট রয়েছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ভাষা ব্যবহার রিয়াদের জন্য চূড়ান্ত বিব্রতকর হলেও, ইরান ইস্যুতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ আপাতত তাদের এই অস্বস্তিকর সম্পর্কে টিকিয়ে রাখছে।

 

 

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃবিডিনিউজ২৪