১৫০০ টাকার জন্য খুন: তাহিরপুরে সোনা মিয়া হত্যা মামলার ৬ আসামি আটক
- আপডেট সময়ঃ ১২:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৮৪ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হলহলিয়া গ্রামে মাত্র দেড় হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সোনা মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে।
এই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রবিবার (১০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে র্যাবের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা সবাই তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন- ১. শাহ জাহান (৩৬), ২. বিল্লাল মিয়া (৩৪), ৩. জহুর মিয়া (৪২), ৪. শাহ করিম (৩৪), ৫. জালাল মিয়া (৪৪) এবং ৬. আল আমিন (৩২)।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ সেপ্টেম্বর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র ১৫০০ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে হলহলিয়া গ্রামের সোনা মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের সুলতান মিয়া ও তার সহযোগীদের কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে সুলতান মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সোনা মিয়ার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের লাঠিসোঁটা ও ধারের অস্ত্রের আঘাতে সোনা মিয়া গুরুতর জখম হন।
২২ দিনের লড়াই শেষে মৃত্যুঃ
হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা সোনা মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘ ২২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেন তিনি।
গত ১৪ অক্টোবর হাসপাতালের বিছানায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সোনা মিয়া।
সোনা মিয়ার মৃত্যুর পর তার ছেলে বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় সুলতান মিয়াসহ তার সহযোগীদের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামিরা গ্রেপ্তারের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেন।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে গত ৩ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্যরা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তারা দাবি করেন, সোনা মিয়া মারা যাওয়ার পর দিনই প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে নিজেদের ঘরবাড়ির জিনিসপত্র লুটপাট করে, যাতে নিহতের পরিবারের ওপর পাল্টা মামলার চাপ সৃষ্টি করা যায় এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে র্যাব সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত সুলতান মিয়াসহ বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





















