সংক্রমণ মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ
৮ বছর পর ফিরছে হামের টিকাদান কর্মসূচি
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে।
দেশে দীর্ঘ আট বছর ধরে বন্ধ থাকা হামের (মিজেলস) বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার এই জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক ওষুধশিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সরকারের এই প্রস্তুতির কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, গত আট বছর ধরে দেশে হামের বিশেষ কোনো টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়নি। দীর্ঘ এই সময় ধরে কোনো সরকারই এই গুরুত্বপূর্ণ টিকা প্রদানের উদ্যোগ না নেওয়ায় বর্তমানে মিজেলস বা হামের রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি (পারচেজ কমিটি) এই প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে। খুব শীঘ্রই বড় পরিসরে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত টিকাদান সূচি অনুযায়ী, শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়, যা গত কয়েক বছর স্থবির ছিল।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় এই বিশেষ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিশুদের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে, যার ফলে নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। চলতি বছরের ৪ঠা জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১০ই জানুয়ারি সেখানে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এরপর দ্রুতই রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন শিশু হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি, যাদের বড় অংশই হামে আক্রান্ত শিশু।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া প্রস্তুতির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ওয়ার্ডগুলো ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সংযুক্ত বিশেষ শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ঢাকার বাইরেও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বিশেষ সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে শিশুমৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করছে। সংগৃহীত ৫টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে ৪টিই দ্রুত রাজশাহীতে পাঠানো হচ্ছে যাতে সেখানে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের এই উদ্যোগে সহযোগিতা করছে। তারা শিগগিরই আরও ১২টিরও বেশি ভেন্টিলেটর সরবরাহ করবে।
এই নতুন সরঞ্জাম এবং শুরু হতে যাওয়া দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি হামের সংক্রমণ রুখতে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন




















