সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা
ইরাকে মার্কিন যুদ্ধবিমানে হামলার দায় স্বীকার:
- আপডেট সময়ঃ ০৯:১১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
- / ৮ বার পড়া হয়েছে।
ইরাকের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অত্যাধুনিক KC-135 রিফুয়েলিং বা জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার জোরালো দাবি জানিয়েছে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’।
শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে গোষ্ঠীটি তাদের অভিযানের বিস্তারিত ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছে।
সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দুটি পৃথক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তাদের যোদ্ধারা সুনির্দিষ্ট এবং ‘উপযুক্ত অস্ত্র’ ব্যবহার করে একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজ আকাশেই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
একই অভিযানে তারা দ্বিতীয় আরেকটি বিমানেও সফলভাবে আঘাত হানে। গোষ্ঠীটির বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিমানটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটির ক্রুরা প্রাণ বাঁচাতে ‘শত্রুপক্ষের একটি বিমানবন্দরে’ জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
নিজেদের এই দুঃসাহসিক অভিযানের নেপথ্যে বড় কারণ হিসেবে ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টি সামনে এনেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক।
তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দখলদার মার্কিন বাহিনীর উড়োজাহাজগুলো ক্রমাগতভাবে ইরাকের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে আসছিল। মূলত এই আকাশসীমা দখলমুক্ত রাখতে এবং মার্কিনিদের অবৈধ আনাগোনা বন্ধ করতেই তারা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
গোষ্ঠীটি তাদের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার এক ভয়াবহ খতিয়ানও তুলে ধরেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, গত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তারা ইরাক ও এই অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে মোট ৩১টি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে কয়েক ডজন ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করে।
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি বার্তা দিয়ে ইরাকের আকাশে তাদের একটি কেসি-১৩৫ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, ঘটনার সময় সেখানে দুটি বিমান ছিল, যার মধ্যে একটি পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হয় এবং অন্যটি নিরাপদ স্থানে অবতরণ করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে। ইরানের সেই পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় এবার ইরাকের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সরাসরি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি জানালো, যা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো




















