০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রয়াণ: গুজব বনাম বাস্তবতা

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে।

‎ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটাতে সত্য তথ্য সামনে এনেছে বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেক সংস্থা।

২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবর রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ‘জীবিত’ থাকার দাবি করে একটি ছবি ভাইরাল হয়।

 

ওই ছবিতে দাবি করা হচ্ছিল, খামেনি বর্তমানে সাহারা মরুভূমিতে আত্মগোপনে আছেন। তবে নিবিড় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ছবিটি বর্তমানের নয়, বরং এটি ২০১৪ সালের একটি পুরনো ছবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতেই এই ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

‎ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘প্রেস টিভি’ খামেনিকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর প্রয়াণের খবর প্রচার করেছে এবং দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে তেহরানের রাজপথ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ চত্বরগুলোতে শোকাতুর মানুষের ঢল নেমেছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সফল অভিযানকে ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে, এই শীর্ষ নেতার মৃত্যুর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৩.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

‎সাহারা মরুভূমিতে খামেনির অবস্থানের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তথ্য যাচাইয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি ১০ বছরের পুরনো।

‎নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, স্যাটেলাইট ডাটা ও সাইবার নজরদারির মাধ্যমে কয়েক মাসের সুক্ষ্ম পরিকল্পনার পর তেহরানের সুরক্ষিত ঘাঁটিতে এই হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

‎শিয়া রীতি অনুযায়ী শোক পালনের জন্য ইরানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে খামেনির বিদেহী আত্মার জন্য বিশেষ প্রার্থনা ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

‎শীর্ষ নেতার মৃত্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার সাথে সাথেই তেলের দাম ৩.২ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

‎মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি এই মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তবে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে তাদের।

‎মূলপোস্টঃ https://tinywebs.info/Q46llz

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রয়াণ: গুজব বনাম বাস্তবতা

আপডেট সময়ঃ ০৯:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

‎ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটাতে সত্য তথ্য সামনে এনেছে বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেক সংস্থা।

২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবর রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ‘জীবিত’ থাকার দাবি করে একটি ছবি ভাইরাল হয়।

 

ওই ছবিতে দাবি করা হচ্ছিল, খামেনি বর্তমানে সাহারা মরুভূমিতে আত্মগোপনে আছেন। তবে নিবিড় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ছবিটি বর্তমানের নয়, বরং এটি ২০১৪ সালের একটি পুরনো ছবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতেই এই ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

‎ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘প্রেস টিভি’ খামেনিকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর প্রয়াণের খবর প্রচার করেছে এবং দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে তেহরানের রাজপথ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ চত্বরগুলোতে শোকাতুর মানুষের ঢল নেমেছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সফল অভিযানকে ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে, এই শীর্ষ নেতার মৃত্যুর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৩.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

‎সাহারা মরুভূমিতে খামেনির অবস্থানের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তথ্য যাচাইয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি ১০ বছরের পুরনো।

‎নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, স্যাটেলাইট ডাটা ও সাইবার নজরদারির মাধ্যমে কয়েক মাসের সুক্ষ্ম পরিকল্পনার পর তেহরানের সুরক্ষিত ঘাঁটিতে এই হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

‎শিয়া রীতি অনুযায়ী শোক পালনের জন্য ইরানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে খামেনির বিদেহী আত্মার জন্য বিশেষ প্রার্থনা ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

‎শীর্ষ নেতার মৃত্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার সাথে সাথেই তেলের দাম ৩.২ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

‎মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি এই মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তবে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে তাদের।

‎মূলপোস্টঃ https://tinywebs.info/Q46llz