দলের লোক হলেও ছাড় নেই, বিশ্বম্ভরপুর হবে মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত
রঙ্গারচর ও রক্তনদীতে চাঁদাবাজি রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
- / ৭০ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল বলেছেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অপরাধ দমনে প্রশাসনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে এবং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
সোমবার (২ মার্চ, ২০২৬) দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় উপজেলার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অপরাধ দমনে কঠোর হুঁশিয়ারিঃ
বক্তব্যের শুরুতেই এমপি নূরুল ইসলাম এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেনঃ “বিশেষ করে রঙ্গারচর ও রক্তনদী এলাকা বর্তমানে চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিশ্বম্ভরপুরের মাটিতে কোনো চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি বা সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। যদি আমার দলের কোনো লোকও এসব অপকর্মে জড়িত থাকে, তবে তাকেও আইনের আওতায় আসতে হবে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা এসব সমূলে নির্মূল করব।”
বর্তমান সরকারের ৩১ দফা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এলাকার কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন কর্মসূচি দ্রুত শুরু করা হবে যাতে কৃষকরা সেচ সুবিধা পান এবং জলাবদ্ধতা দূর হয়। তিনি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল মতিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংসদ সদস্যকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এর আগে সকালে এমপি নূরুল ইসলাম উপজেলা চত্বরে পৌঁছালে স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
সভায় স্থানীয় জননিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন: বাদাঘাট দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছবাব মিয়া, ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, ধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিলন মিয়া, পলাশ ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান স্বপন পাল ও আব্দুল হাসিম, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েস ও নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. সুমন চন্দ্র বর্মন, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, প্রেসক্লাব সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন, এনটিভি প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান এবং সাংবাদিক সফিউল আলম প্রমুখ।
মতবিনিময় সভা শেষে সংসদ সদস্য উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেন এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন।











