গণপ্রতিরোধের ডাক;ধোপাজানে বোমা বন্ধে
- আপডেট সময়ঃ ০৭:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে।
গণপ্রতিরোধের ডাক;ধোপাজানে বোমা বন্ধে
প্রেসবিজ্ঞপ্তি
হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট ০৪ জুলাই, ২০২৬
ছবি সংগ্রহীত
ধোপাজান নদীতে ড্রেজার ও বোমা মেশিনের অবৈধ আগ্রাসন রোধে সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা বারকি শ্রমিক সংঘ। একই সাথে গণবিরোধী ইজারা প্রথা বাতিল, সরকারিভাবে ক্রয়—বিক্রয় কেন্দ্র চালু এবং সনাতন পদ্ধতিতে বালি—পাথর আহরণ নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুন) বিকালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জিনারপুর বাজারে জেলা বারকি শ্রমিক সংঘের (রেজি নং— চট্টগ্রাম—২৮৮৩) উদ্যোগে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নাসির মিয়া। সিদ্দিক মিয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে গণবিরোধী ইজারা প্রথা বাতিল করে সরকারি উদ্যোগে বালি—পাথর ক্রয়—বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা।
দুর্নীতিগ্রস্ত নীতিমালা পরিবর্তন করে শ্রমবান্ধব গণনীতিমালা প্রণয়ন। বালি—পাথর মহালের বাইরে স্টিল বডি নৌকা রাখার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ। কার্ডধারী বারকি শ্রমিকদের মহালের ভেতরে সনাতন পদ্ধতিতে (বারকি, বেলচা, নেট, সাবল) বালি—পাথর আহরণের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়া। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বারকি শ্রমিক সংঘের প্রবীণ নেতা নাসির মিয়া (নাসু), প্রচার সম্পাদক আবুল বাশার, সদস্য মরমা আলী, তাহের মিয়া, মনির মিয়া প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ড্রেজার ও বোমা মেশিনের আগ্রাসী তৎপরতার কারণে ধোপাজান নদীর প্রাণ—প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে। নদী তীরবর্তী বহু হাট—বাজার ও রাস্তাঘাট ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। লুটেরা চক্রের আগ্রাসনের কারণে ২০১৮ সাল থেকে বালি—পাথর মহাল বন্ধ রয়েছে।
নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভাটির জনপদ হাওরাঞ্চলের কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের জীবন—জীবিকার একমাত্র ভরসাস্থল এই বালি—পাথর মহাল। কিন্তু দীর্ঘকাল মহাল বন্ধ থাকায় হাজার হাজার বারকি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এবং পরিবার—পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে—অনাহারে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বক্তারা আরও বলেন, ইজারা প্রথা বাতিল করে সরকারি ক্রয়—বিক্রয় কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতিটি দায়িত্বশীল মহলে বারবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে শ্রমিকদের মাঝে চরম হতাশা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সমাবেশ থেকে বারকি শ্রমিকদের স্বার্থে অবিলম্বে ধোপাজান চলতি নদীর বালি—পাথর মহাল খুলে দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায়, নদীর পরিবেশ ও শ্রমিকদের রুটি—রুজি রক্ষায় ড্রেজার—বোমা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতারা।


















