০১:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সরকারের বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে।

আগামী এক বছরের জন্য সরকারের বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এক কথায়, দেশ চালাতে সরকারের খরচ হবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সরকার ট্যাক্স ও ভ্যাট বাবদ ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তাহলে বাকি ২ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে আসবে? এই ঘাটতি পূরণ করতে সরকার দেশের ভেতর ও দেশের বাইরের বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে।

সরকার সরাসরি দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। যখন সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, তখন নতুন টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়ার কারণে টাকার মান কমতে পারে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আগে যে পণ্য ১০ টাকায় কেনা যেত, মূল্যস্ফীতির কারণে সেটি ১৫ টাকায় কিনতে হতে পারে। মানুষের আয় বা বেতন সেই হারে না বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়ে যায়। এ কারণেই সরকার অনেক সময় শুধু টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে অন্যান্য উৎস থেকেও অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করে।

সরকার ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক উপকরণ ব্যবহার করে।

✅সুকুক (Sukuk)
✅ট্রেজারি বন্ড (Treasury Bond)
✅সঞ্চয়পত্র
✅প্রাইজ বন্ড

এগুলোর মাধ্যমে সরকার দেশীয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। এছাড়া প্রবাসীদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহের জন্য Wage Earners Development Bond, US Dollar Premium Bond এবং US Dollar Investment Bond ইস্যু করা হয়। একই সঙ্গে সরকার প্রয়োজনে দেশের বাইরে থেকেও ঋণ নেয়।

সরকার বিভিন্ন সময় World Bank, JICA, IMF এবং ADB-এর মতো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ নিয়ে থাকে। এসব ঋণের অন্যতম সুবিধা হলো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সহায়তা পাওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু শর্তও থাকে। যেমন, সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বা অন্যান্য খাতে ভর্তুকি কমাতে হতে পারে, যাতে সরকার সহজে ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে পারে।

এক কথায়, সরকার দেশ চালাতে ট্যাক্স-ভ্যাট সংগ্রহ করে এবং প্রয়োজনে দেশীয় ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে বাজেটের ঘাটতি পূরণ করে। পৃথিবীর অনেক বড় অর্থনীতিও বাজেট পরিচালনার জন্য ঋণ নেয়। তাই শুধু ঋণ নেওয়াই খারাপ নয়; গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেই ঋণের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে।

আরেকটি বিষয় হলো কর্মসংস্থান। দেশে যদি কর্মসংস্থান কমে যায় এবং বেকারের সংখ্যা বাড়ে, তাহলে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ে। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের আয় বাড়লে কর দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়ে, সরকারের রাজস্ব বাড়ে এবং অর্থনীতিও শক্তিশালী হয়।

সবশেষে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ঋণ নিয়ে দেশ চালানো নিজে খারাপ নয়। কিন্তু ঋণের অর্থ যদি ভুল প্রকল্পে ব্যয় হয়, অপচয় হয় বা দেশের বাইরে পাচার হয়ে যায়, তখন সেটি জনগণের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ অর্থ পাচার হলে ডলারের ওপর চাপ বাড়ে, ডলারের দাম বেড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই বাজেটের অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাই একটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

#বাংলাদেশ #বাজেট২০২৬ #জাতীয়বাজেট #অর্থনীতি #ট্যাক্স #ভ্যাট #ঋণ #বাংলাদেশব্যাংক #সুকুক #ট্রেজারিবন্ড #সঞ্চয়পত্র #প্রাইজবন্ড #WorldBank #IMF #ADB #JICA #রিজার্ভ #মূল্যস্ফীতি #কর্মসংস্থান #ডলার #অর্থনৈতিকবিশ্লেষণ #সংগৃহীত

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সরকারের বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময়ঃ ০৮:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

আগামী এক বছরের জন্য সরকারের বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এক কথায়, দেশ চালাতে সরকারের খরচ হবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সরকার ট্যাক্স ও ভ্যাট বাবদ ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তাহলে বাকি ২ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে আসবে? এই ঘাটতি পূরণ করতে সরকার দেশের ভেতর ও দেশের বাইরের বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে।

সরকার সরাসরি দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। যখন সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, তখন নতুন টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়ার কারণে টাকার মান কমতে পারে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আগে যে পণ্য ১০ টাকায় কেনা যেত, মূল্যস্ফীতির কারণে সেটি ১৫ টাকায় কিনতে হতে পারে। মানুষের আয় বা বেতন সেই হারে না বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়ে যায়। এ কারণেই সরকার অনেক সময় শুধু টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে অন্যান্য উৎস থেকেও অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করে।

সরকার ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক উপকরণ ব্যবহার করে।

✅সুকুক (Sukuk)
✅ট্রেজারি বন্ড (Treasury Bond)
✅সঞ্চয়পত্র
✅প্রাইজ বন্ড

এগুলোর মাধ্যমে সরকার দেশীয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। এছাড়া প্রবাসীদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহের জন্য Wage Earners Development Bond, US Dollar Premium Bond এবং US Dollar Investment Bond ইস্যু করা হয়। একই সঙ্গে সরকার প্রয়োজনে দেশের বাইরে থেকেও ঋণ নেয়।

সরকার বিভিন্ন সময় World Bank, JICA, IMF এবং ADB-এর মতো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ নিয়ে থাকে। এসব ঋণের অন্যতম সুবিধা হলো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সহায়তা পাওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু শর্তও থাকে। যেমন, সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বা অন্যান্য খাতে ভর্তুকি কমাতে হতে পারে, যাতে সরকার সহজে ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে পারে।

এক কথায়, সরকার দেশ চালাতে ট্যাক্স-ভ্যাট সংগ্রহ করে এবং প্রয়োজনে দেশীয় ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে বাজেটের ঘাটতি পূরণ করে। পৃথিবীর অনেক বড় অর্থনীতিও বাজেট পরিচালনার জন্য ঋণ নেয়। তাই শুধু ঋণ নেওয়াই খারাপ নয়; গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেই ঋণের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে।

আরেকটি বিষয় হলো কর্মসংস্থান। দেশে যদি কর্মসংস্থান কমে যায় এবং বেকারের সংখ্যা বাড়ে, তাহলে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ে। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের আয় বাড়লে কর দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়ে, সরকারের রাজস্ব বাড়ে এবং অর্থনীতিও শক্তিশালী হয়।

সবশেষে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ঋণ নিয়ে দেশ চালানো নিজে খারাপ নয়। কিন্তু ঋণের অর্থ যদি ভুল প্রকল্পে ব্যয় হয়, অপচয় হয় বা দেশের বাইরে পাচার হয়ে যায়, তখন সেটি জনগণের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ অর্থ পাচার হলে ডলারের ওপর চাপ বাড়ে, ডলারের দাম বেড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই বাজেটের অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাই একটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

#বাংলাদেশ #বাজেট২০২৬ #জাতীয়বাজেট #অর্থনীতি #ট্যাক্স #ভ্যাট #ঋণ #বাংলাদেশব্যাংক #সুকুক #ট্রেজারিবন্ড #সঞ্চয়পত্র #প্রাইজবন্ড #WorldBank #IMF #ADB #JICA #রিজার্ভ #মূল্যস্ফীতি #কর্মসংস্থান #ডলার #অর্থনৈতিকবিশ্লেষণ #সংগৃহীত