০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষিকার ভাইরাল হওয়া রিল ভিডিও।

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ১২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ১২ বার পড়া হয়েছে।

হকবার্তা ডেস্ক: 

‎২৮ জুলাই ২০২৬

‎শিক্ষক বিউটি রাণী পালের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ফেসবুক রিল ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রশাসনিক তদন্ত, সরকারি চাকরিবিধির ব্যাখ্যা এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা-সব মিলিয়ে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

 

‎তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, অশ্লীলতা না থাকলে গান গাওয়া অন্যায় নয়।

‎জানা যায়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রাণী পাল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি জনপ্রিয় গানের সঙ্গে নিজের রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের এক পক্ষ এটিকে একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার অংশ দেখছেন।

‎অন্য পক্ষ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ধরনের ভিডিও ধারণকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছে। এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষকরা একই গান ব্যবহার করে রিল ভিডিও প্রকাশ করে সংহতি জানান।

‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আনন্দময় শিক্ষার জন্য শিক্ষককে সংস্কৃতিমনা ও সৃজনশীল হতে হয়। তাই কেবল গান গাওয়ার কারণে একজন শিক্ষককে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।

‎বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খাইরুন নাহার লিপিও মনে করেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অশালীন না হলে বা দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত না ঘটালে সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই।

‎প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘একজন শিক্ষকের গান গাওয়াকে তিনি অন্যায় মনে করেন না। যদি অশ্লীল না থাকে, তাহলে গান গাওয়া অন্যায়-এটি আমি মানতে রাজি নই। আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও নেই। না দেখে মন্তব্য করাও ঠিক নয়।’

‎চাকরিবিধিতে কোথাও ব্যক্তিগত সাংস্কৃতিক ভিডিও প্রকাশে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা, দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন সৃষ্টি, বিভ্রান্তিকর বা আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। ফলে কেবল রিল ভিডিও প্রকাশ করাই আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য হয় না।

‎প্রশাসনিক সূত্র বলছে, তদন্তের মূল বিষয় ভিডিওর বিষয়বস্তু নয়; বরং সেটি অফিস চলাকালে ধারণ করা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাঠদান বা সরকারি দায়িত্বে কোনো ব্যাঘাত ঘটেছে কি না তাও খতিয়ে দেখার বিষয়।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষিকার ভাইরাল হওয়া রিল ভিডিও।

আপডেট সময়ঃ ১২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

হকবার্তা ডেস্ক: 

‎২৮ জুলাই ২০২৬

‎শিক্ষক বিউটি রাণী পালের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ফেসবুক রিল ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রশাসনিক তদন্ত, সরকারি চাকরিবিধির ব্যাখ্যা এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা-সব মিলিয়ে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

 

‎তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, অশ্লীলতা না থাকলে গান গাওয়া অন্যায় নয়।

‎জানা যায়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রাণী পাল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি জনপ্রিয় গানের সঙ্গে নিজের রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের এক পক্ষ এটিকে একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার অংশ দেখছেন।

‎অন্য পক্ষ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ধরনের ভিডিও ধারণকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছে। এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষকরা একই গান ব্যবহার করে রিল ভিডিও প্রকাশ করে সংহতি জানান।

‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আনন্দময় শিক্ষার জন্য শিক্ষককে সংস্কৃতিমনা ও সৃজনশীল হতে হয়। তাই কেবল গান গাওয়ার কারণে একজন শিক্ষককে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।

‎বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খাইরুন নাহার লিপিও মনে করেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অশালীন না হলে বা দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত না ঘটালে সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই।

‎প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘একজন শিক্ষকের গান গাওয়াকে তিনি অন্যায় মনে করেন না। যদি অশ্লীল না থাকে, তাহলে গান গাওয়া অন্যায়-এটি আমি মানতে রাজি নই। আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও নেই। না দেখে মন্তব্য করাও ঠিক নয়।’

‎চাকরিবিধিতে কোথাও ব্যক্তিগত সাংস্কৃতিক ভিডিও প্রকাশে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা, দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন সৃষ্টি, বিভ্রান্তিকর বা আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। ফলে কেবল রিল ভিডিও প্রকাশ করাই আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য হয় না।

‎প্রশাসনিক সূত্র বলছে, তদন্তের মূল বিষয় ভিডিওর বিষয়বস্তু নয়; বরং সেটি অফিস চলাকালে ধারণ করা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাঠদান বা সরকারি দায়িত্বে কোনো ব্যাঘাত ঘটেছে কি না তাও খতিয়ে দেখার বিষয়।