০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

থানায় অভিযোগ ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য: শেষ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষাবিভাগ

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ৭৬ বার পড়া হয়েছে।

‎হকবার্তা ডেস্ক:

‎২৮ জুলাই ২০২৮

একটি ফেসবুক রিল ভিডিওকে কেন্দ্র করে সিলেটের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা, সাইবার হয়রানির অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), পুলিশি তদন্ত এবং শিক্ষা বিভাগের সম্ভাব্য অনুসন্ধান—সব মিলিয়ে কয়েকদিন ধরে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটে। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা বিভাগের অবস্থানে পরিবর্তন আসে।

‎ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি পাল নিজের ফেসবুক পেজে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটিতে আশির দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ডিফারেন্ট টাচ’-এর ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের একটি অংশ ব্যবহার করা হয়। সেখানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে হাঁটতে দেখা যায় তাকে।

‎ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ট্রোল ও সমালোচনার মুখে পড়েন বিউটি পাল। পরে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা তার প্রতি সংহতি জানিয়ে একই গানের অংশ ব্যবহার করে নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলে ভিডিও প্রকাশ করতে শুরু করেন। কেউ বিদ্যালয়ের ভেতরে, কেউ বাইরে ধারণ করা ভিডিও পোস্ট করেন।

অধিকাংশ ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, বিউটি পালের বিরুদ্ধে সাইবার হয়রানির প্রতিবাদেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

‎থানায় জিডি, পুলিশের তদন্ত

‎ভিডিও প্রকাশের একদিন পর, ২৪ জুলাই ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিউটি পাল। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

‎ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, ‘উনার একটি পোস্ট কেউ কেউ অতিরঞ্জিত করে প্রচার করছে এবং তার ফলে তিনি বিব্রত বোধ করছেন বিধায় তিনি অভিযোগ করেছেন। কে বা কারা এটি করেছে সেটি বের করার জন্য তিনি পুলিশের কাছে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন’।

 

‎তিনি আরও জানান, বিউটি পাল নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইটি ফরেনসিক বিভাগের সহায়তা নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

 

‎প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ‘ইউটার্ন’

‎ভিডিওটি সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে কিনা, তা যাচাই করতে একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে চিন্তা করেছিল সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

‎এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদ গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমরা চিন্তা করেছিলাম যে এটি (ভিডিওটি) সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নীতিমালা লঙ্ঘন করে কিনা, আমরা তা খতিয়ে দেখব।’

‎তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের মন্তব্যের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিভাগটি।

‎সোমবার রাতে সাখাওয়াত এরশাদ বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যটা তো আপনি লক্ষ্য করেছেন, এরপর তো আর আমাদের কোনো কথা থাকে না’।

‎পরে তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী যখন একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছেন, তারপর তো আমাদের এ বিষয়ে করার কিছু নাই’।

 

‎প্রতিমন্ত্রী যা বলেছিলে

‎সোমবার সিলেট সফরকালে সাংবাদিকরা বিউটি পালের ভিডিও প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

‎জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার সোশ্যাল মিডিয়া নেই, কাজেই আমি ভিডিও দেখিনি। আমি আশেপাশে জিজ্ঞেস করে জানলাম, একজন একটা গান গেয়ে একটি ভিডিও করেছে এবং সেখানে অশ্লীলতা বা তেমন কিছূ নেই। যদি না থাকে, গান গাওয়া অন্যায় এটা আর কেউ মানুক বা না মানুক, আমি মানতে রাজি না।’

 

‎প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ জানায়, বিষয়টি নিয়ে আর কোনো অনুসন্ধান বা কমিটি গঠন করা হবে না।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

থানায় অভিযোগ ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য: শেষ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষাবিভাগ

আপডেট সময়ঃ ০১:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

‎হকবার্তা ডেস্ক:

‎২৮ জুলাই ২০২৮

একটি ফেসবুক রিল ভিডিওকে কেন্দ্র করে সিলেটের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা, সাইবার হয়রানির অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), পুলিশি তদন্ত এবং শিক্ষা বিভাগের সম্ভাব্য অনুসন্ধান—সব মিলিয়ে কয়েকদিন ধরে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটে। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা বিভাগের অবস্থানে পরিবর্তন আসে।

‎ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি পাল নিজের ফেসবুক পেজে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটিতে আশির দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ডিফারেন্ট টাচ’-এর ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের একটি অংশ ব্যবহার করা হয়। সেখানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে হাঁটতে দেখা যায় তাকে।

‎ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ট্রোল ও সমালোচনার মুখে পড়েন বিউটি পাল। পরে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা তার প্রতি সংহতি জানিয়ে একই গানের অংশ ব্যবহার করে নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলে ভিডিও প্রকাশ করতে শুরু করেন। কেউ বিদ্যালয়ের ভেতরে, কেউ বাইরে ধারণ করা ভিডিও পোস্ট করেন।

অধিকাংশ ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, বিউটি পালের বিরুদ্ধে সাইবার হয়রানির প্রতিবাদেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

‎থানায় জিডি, পুলিশের তদন্ত

‎ভিডিও প্রকাশের একদিন পর, ২৪ জুলাই ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিউটি পাল। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

‎ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, ‘উনার একটি পোস্ট কেউ কেউ অতিরঞ্জিত করে প্রচার করছে এবং তার ফলে তিনি বিব্রত বোধ করছেন বিধায় তিনি অভিযোগ করেছেন। কে বা কারা এটি করেছে সেটি বের করার জন্য তিনি পুলিশের কাছে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন’।

 

‎তিনি আরও জানান, বিউটি পাল নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইটি ফরেনসিক বিভাগের সহায়তা নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

 

‎প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ‘ইউটার্ন’

‎ভিডিওটি সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে কিনা, তা যাচাই করতে একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে চিন্তা করেছিল সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

‎এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদ গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমরা চিন্তা করেছিলাম যে এটি (ভিডিওটি) সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নীতিমালা লঙ্ঘন করে কিনা, আমরা তা খতিয়ে দেখব।’

‎তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের মন্তব্যের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিভাগটি।

‎সোমবার রাতে সাখাওয়াত এরশাদ বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যটা তো আপনি লক্ষ্য করেছেন, এরপর তো আর আমাদের কোনো কথা থাকে না’।

‎পরে তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী যখন একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছেন, তারপর তো আমাদের এ বিষয়ে করার কিছু নাই’।

 

‎প্রতিমন্ত্রী যা বলেছিলে

‎সোমবার সিলেট সফরকালে সাংবাদিকরা বিউটি পালের ভিডিও প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

‎জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার সোশ্যাল মিডিয়া নেই, কাজেই আমি ভিডিও দেখিনি। আমি আশেপাশে জিজ্ঞেস করে জানলাম, একজন একটা গান গেয়ে একটি ভিডিও করেছে এবং সেখানে অশ্লীলতা বা তেমন কিছূ নেই। যদি না থাকে, গান গাওয়া অন্যায় এটা আর কেউ মানুক বা না মানুক, আমি মানতে রাজি না।’

 

‎প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ জানায়, বিষয়টি নিয়ে আর কোনো অনুসন্ধান বা কমিটি গঠন করা হবে না।