নদী গিলে খাচ্ছিল বালুখেকোরা:
চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতের কাঠগড়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর
- আপডেট সময়ঃ ১২:৪১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
- / ৩৫ বার পড়া হয়েছে।
আইন কিংবা প্রকৃতির তোয়াক্কা না করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের রূপসী যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে যারা ক্ষতবিক্ষত করছিল, শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ঘেরাটোপ আরও শক্ত হলো। ইজারা সীমানার বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
সোমবার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর অঞ্চলের আমল গ্রহণকারী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই বহুল আলোচিত মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের নিবিড় তদন্তে নদী ধ্বংসের এই মহোৎসবে জড়িতদের অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পরিবেশ পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম তদন্তের যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে এই আসামিদের তালিকা জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত হওয়া প্রভাবশালী আসামিদের মধ্যে অন্যতম হলেন—তাহিরপুর উপজেলার সোহালা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন (৪০) এবং ঘাঘটিয়া আদর্শগ্রামের মৃত এখলাছ মিয়ার ছেলে মোশাহিদ হোসেন রানু ওরফে রানু মেম্বার (৩৭)। এছাড়া যাদুকাটার পাড় কাটার এই সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢালারপাড় (লাউড়েরগড়) গ্রামের জামাল মিয়া (৫৪) ও বিল্লাল মিয়া (৪৮) এবং রাজারগাঁও জাঙ্গালহাটি গ্রামের বোরহান উদ্দিনসহ (৫৪) মোট ২৭ জনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত—২০১০)-এর বিভিন্ন ধারা ও টেবিল ক্রমিক অনুযায়ী পরিবেশ ধ্বংসের সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই আইনি পদক্ষেপের সূত্রপাত হয়েছিল বিগত ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর। সে সময় তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরান লাউড় মৌজার যাদুকাটা—১ এবং চালিয়ারঘাট মৌজার যাদুকাটা—২ বালুমহালকে কেন্দ্র করে এই লুটপাটের রাজত্ব গড়ে উঠেছিল। সরকারি ইজারার তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে নদীর পাড় ও রাজাই মৌজার দৃষ্টিনন্দন শিমুল বাগান সংলগ্ন এলাকায় দেদারসে নদীর পাড় কাটা হচ্ছিল। প্রকৃতির ওপর এই নির্মমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় ৩৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা (মামলা নং-১৩/২১৭) দায়ের করেছিলেন।
মামলার সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বাদী মো. মোহাইমিনুল হক স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রূপসী যাদুকাটা নদী এবং এর আশপাশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষা করা তাদের মূল লক্ষ্য।
ইজারার আড়ালে যারা নদীর পাড় কেটে বিপর্যয় ডেকে আনছিল, তদন্তে তাদের অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। যার ভিত্তিতেই এই ২৭ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আগামীতেও বজায় থাকবে।




















