ব্রাজিল হেরে যাওয়ায়,গলায় ফাঁস নিলেন সমর্থক
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- / ১১ বার পড়া হয়েছে।
ব্রাজিল হেরে যাওয়ায়,গলায় ফাঁস নিলেন সমর্থক
হক বার্তা স্পোর্টস ডেস্ক
০৬জুলাই ২০২৬ইং
ছবি, সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের পরাজয় এবং প্রতিপক্ষের ট্রল সহ্য করতে না পেরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রতন আলী (২০) নামে এক সমর্থক গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
একই এলাকার হোসেন আলীর ছেলে রতন আলী পেশায় ছিলেন শ্রমিক। রতনের দুই মাসের সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে নরওয়ে ও ব্রাজিল ফুটবল দলের খেলায় রতনের প্রিয় দল ব্রাজিল পরাজয় বরণ করে। এ সময় প্রতিপক্ষ ফুটবল দলের সমর্থকদের নেতিবাচক ট্রলের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। পরে রাতে না খেয়ে তিনি তার শোবার ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে পাউরুটি খেয়ে আবার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ঘরের আড়ায় গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
রতনের বাবা হোসেন আলী জানান, রতন খুব জেদি প্রকৃতির ছেলে। রাতে খেলা দেখে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। সকালে বাইরে এসে পাউরুটি খেয়ে আবার ঘরের ভেতর চলে যায়। পরে রতনের শাশুড়ি আমার বাড়িতে খড়ি দিতে আসলে তিনি রতনকে ডাকেন। দীর্ঘ সময় রতনের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ১১টার দিকে বাড়ির সবাই রতনের জানালায় উঁকি দিলে তাকে আড়ার সাথে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। দরজা ভেঙে রতনকে রশি থেকে নামানো হয়। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, রতন বিবাহিত এবং তার দুই মাসের সন্তান রয়েছে। সন্তান হওয়ার কারণে তার বউ এখন রতনের শ্বশুড়বাড়ি আছে।
কুমারখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, রতন ব্রাজিল ফুটবল দলের একজন কট্টর সমর্থক। তার দল হেরে যাওয়ায় প্রতিপক্ষ ফুটবল দলের সমর্থক কিছু মানুষের নেতিবাচক ট্রলের শিকার হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। সেটি সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যরা রতনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমরা খবর পেয়ে রতনের বাবা, মা, শ্বশুড়, শাশুড়ি ও রতনের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রতন আত্মহত্যা করেছে বলে সত্যতা পেয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।




















