বারবার তারিখ পরিবর্তনের পর এবার ১৫ মার্চ যাত্রা
এসি ব্যবস্থাপনা শিখতে গণপূর্তের ৮ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফর:
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে।
দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু এই প্রকল্পের চিকিৎসা সরঞ্জাম বা চিকিৎসার চেয়েও এখন আলোচনায় কর্মকর্তাদের একটি বিদেশ সফর।
কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা ‘এসি’ ব্যবস্থাপনা (HVAC System) শিখতে এবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা।
আগামী ১৫ মার্চ তাদের ঢাকা ত্যাগের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এর আগে দুই দফা তারিখ ঠিক করা হলেও তা পিছিয়ে গিয়েছিল। এবার মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মেলায় কর্মকর্তাদের প্যাকিং এখন শেষের দিকে।
২০১৯ সালে সরকার বিভাগীয় শহরগুলোতে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার ও হৃদরোগ কেন্দ্র স্থাপনের মেগা প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পের অধীনে ‘সেফটি ফ্যাসিলিটিস, অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ম্যানেজমেন্ট অব এইচভিএসি সিস্টেম’ শীর্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নিতেই এই বিদেশ যাত্রা। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে—এসি রক্ষণাবেক্ষণ শেখার জন্য কেন আটজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হচ্ছে?
খরচ কে দিচ্ছে:
তালিকায় আছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থেকে শুরু করে নির্বাহী স্থপতি এবং মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি পর্যন্ত।
এই সফরের যাবতীয় ব্যয় বহন করছে এসি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ডানহাম-বুশ’। কোনো বিদেশি কোম্পানির খরচে সরকারি কর্মকর্তাদের এই সফর নিয়ে সচেতন মহলে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মূল প্রশিক্ষণ মাত্র ৫ দিনের (১৫-১৯ মার্চ), তবে যাওয়া-আসার সময় এর বাইরে।
এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রার তারিখ ঠিক হলেও তা বাতিল করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৪ মার্চ মন্ত্রণালয় পুনরায় অনুমোদন দেয়।
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা একে ‘প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন’ হিসেবে দেখছেন। সফরের তালিকায় থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, “নির্মাণ কাজ শেষে আমাদেরই এই সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে, তাই প্রশিক্ষণে যাওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে, অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এই সফরকে প্রকৌশলীদের জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার চূড়ান্ত তালিকায় যারা:
১. আশরাফুল হক (অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ই/এম), ২. কাজী মো. ফিরোজ হোসেন (অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, সিভিল), ৩. ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ (প্রকল্প পরিচালক), ৪. ড. মো. আশরাফুল ইসলাম (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী), ৫. মো. নাজমুল আলম (ডেপুটি সেক্রেটারি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়), ৬. রাজু আহমেদ (নির্বাহী প্রকৌশলী), ৭. সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা (নির্বাহী স্থপতি) ও ৮. রিসালাত বারি (উপবিভাগীয় প্রকৌশলী)।




















