১৪৪ ধারা জারি
কালীগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল তুঙ্গে: ইফতার মাহফিল নিয়ে রণক্ষেত্র হওয়ার শঙ্কা
- আপডেট সময়ঃ ০৮:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ৮ বার পড়া হয়েছে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় বিএনপির দুই বিবদমান গ্রুপের মধ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং একই স্থানে ইফতার মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন রোববার (৮ মার্চ) ভোর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ‘১৪৪ ধারা’ জারি করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কালীগঞ্জ বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিরাজমান। এই বিরোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে আজ রোববারের নির্ধারিত ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে।
১. সাইফুল ইসলাম ফিরোজের কর্মসূচি: বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ও বিগত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পৌর এলাকার নলডাঙ্গা সড়কের লাটা স্ট্যান্ড সংলগ্ন মাঠে একটি বৃহৎ দোয়া ও ইফতার মাহফিলের ডাক দেন। আয়োজকদের দাবি, তারা অনেক আগেই প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়ে প্রাথমিক মৌখিক অনুমতি নিয়ে প্যান্ডেল ও প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছিলেন।
২. রাশেদ খানের পাল্টা অবস্থান: অন্যদিকে, বিএনপির সাবেক ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খানের অনুসারীরা একই স্থানে এবং একই সময়ে পাল্টা ইফতার মাহফিলের আবেদন জানায়। তাদের দাবি, দলীয় মাঠ ও কর্মসূচিতে বহিষ্কৃতদের কোনো একক কর্তৃত্ব থাকতে পারে না।
সকাল থেকেই দুই পক্ষের সমর্থকরা লাটা স্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হতে শুরু করলে পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। এর ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা ছিল, প্রশাসন হস্তক্ষেপ না করলে যেকোনো সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারতো।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজেওয়ানা নাহিদ রোববার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন।
প্রশাসনের নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে:
* নির্ধারিত সীমানার ভেতরে কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল বা গণজমায়েত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
* একই সাথে ৫ জন বা তার বেশি ব্যক্তির একত্রে চলাচল বা অবস্থান দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
* লাউডস্পিকার বা মাইক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজেওয়ানা নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, “একই স্থানে একই সময়ে দুটি গ্রুপ অনড় অবস্থানে থাকায় জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, ১৪৪ ধারা কার্যকরের পর থেকে পুরো এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এই ঘটনায় দুই গ্রুপের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকরা একে ‘গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা’ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে রাশেদ খানের পক্ষের নেতা-কর্মীরা একে ‘দলের চেইন অফ কমান্ড রক্ষার লড়াই’ বলে দাবি করছেন। এই ১৪৪ ধারা জারির ফলে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করলেও বড় ধরনের অঘটন এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ নাগরিকরা।
তথ্যসহায়তাঃযমুনাটিভি




















