ডাউকি ফল্টের চেয়েও বিপদজনক ‘কপিলি ফল্ট’ : সিলেট শহরের ৮০ ভাগ ভবন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে
- আপডেট সময়ঃ ০৮:০১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৬৭ বার পড়া হয়েছে।
গত রবিবার বিকেলে ভারতের আসামের উদালগুড়িতে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প সিলেটসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তীব্রভাবে অনুভূত হয়। বিকেল ৫টা ১১ মিনিটে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্প সিলেটে পৌঁছায় ৫টা ১৩ মিনিটে।
আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে পড়ে রাস্তায়। এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও সাত দফা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্প বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ কম্পনের উৎপত্তিস্থল আসামের কপিলি ফল্ট জোন। উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম উপত্যকা থেকে ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এই ফল্ট বাংলাদেশের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, “গতকালের ভূমিকম্প কপিলি ফল্টে হয়েছে, যা ডাউকি ফল্টের চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা সবসময় ডাউকিকে নিয়ে গবেষণা করি, কিন্তু কপিলি ফল্টে বিপুল শক্তি জমে আছে। যদি বড় ভূমিকম্প হয়, সিলেটের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”
তিনি জানান, জাপানি গবেষকরা বহুদিন ধরেই কপিলি ফল্টকে গুরুত্ব দিতে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। ছোট ছোট ভূমিকম্পে জমে থাকা শক্তি ধীরে ধীরে বের হলে বিপর্যয় এড়ানো যেতে পারে। তবে একই জায়গা থেকে ঘন ঘন ভূমিকম্প হলে সেটা বড় বিপদের ইঙ্গিত দেয়।
গবেষণা অনুযায়ী, সিলেটের ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প প্রতিরোধী নকশায় নির্মিত নয়। ড. জহিরের মতে, “সাত মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৮০ শতাংশ বহুতল ভবন ধসে পড়তে পারে। আমি বলবো এটা একটা ‘অ্যাটম বোম’। এমনকি ছয় মাত্রার ভূমিকম্প হলেও শহরের পুরোনো অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
সিলেট সিটি করপোরেশন ২০১৯ সালে ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করেছিল। এর মধ্যে ৬টি সংস্কার করে ঝুঁকিমুক্ত করা হয়েছে, বাকি ১৮টি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। যেসব ভবন সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মালিকরা কাজ শেষ করে কাগজপত্র জমা দিচ্ছেন। আমরা সেগুলো যাচাই করে পরবর্তী নির্দেশনা দেব। নতুন ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প প্রতিরোধী নকশা এখন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, আশার কথা হলো—সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে যে নতুন ভবনগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলো নিয়ম মেনেই হচ্ছে এবং অনেক বেশি শক্তিশালী। ফলে নতুন ভবনগুলোতে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাউকি ফল্ট সিলেটের একেবারে গায়ে থাকায় এ নিয়ে সচেতনতা ও গবেষণা বেশি হয়েছে। তবে কপিলি ফল্টও সিলেট থেকে মাত্র ১৯০ থেকে ২২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। আর এই ফল্টে জমে থাকা শক্তি এখনো মুক্ত হয়নি। এ কারণে ডাউকির চেয়ে কপিলি ফল্টকে আরও বিপজ্জনক মনে করছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা।
সুত্রঃসিলেটভিউ24











